মাছ ছাড়া বাঙালির আহার চলে না। তাই মাছকে মুখরোচক করতে কতরকম পদ যে তৈরি হয়েছে এ পর্যন্ত তার ঠিক নেই। এতসব পদের মধ্যে ভেটকি মাছের পাতুরি অন্যতম জনপ্রিয়। এটি খেতেও যেমন সুস্বাদু দেখতেও তেমনি বেশ লাগে। অনেকের হয়ত জানা নেই এই রেসিপি। সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে এটি বানাতে গিয়ে একেবারে শক্ত হয়ে যাবে না আবার নরমও হয়ে যাবে না। চলুন তাহলে জেনে নিই রেসিপি।
যা যা লাগবে
- ভেটকি মাছ ১ কেজি (৬ থেকে ৮ টুকরো)
- কালো সরষে ৩ টেবিল চামচ
- সাদা সরষে ২ টেবিল চামচ
- পোস্তদানা ১ টেবিল চামচ
- নারকেল কোরানো ১ কাপ
- টক দই হাফ কাপ
- হলুদের গুঁড়া ১ চা চামচ
- সরষের তেল ৪ টেবিল চামচ
- কাঁচামরিচ ৮-১০টা
- লেবু ১ টা
- লবণ স্বাদমতো
- কলা পাতা ও সুতা
যেভাবে রাঁধবেন
প্রথমে মাছের টুকরাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে সামান্য লবণ, আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া এবং পাতিলেবুর রস দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এতে মাছ নরম হবে। এবার কালো সরষে, সাদা সরষে এবং পোস্তদানা ৩টি কাঁচামরিচ দিয়ে একসঙ্গে মিহি করে বেটে নিন । মনে রাখবেন, কাঁচামরিচ ছাড়া বেটে নিলে সরষে তিতা হয়ে যাবে।
এরপর টকদই ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এখন একটি পাত্রে সরষে, পোস্তদানা ও কাঁচামরিচবাটা, টকদই, নারকেল, হলুদের গুঁড়া, সরষের তেল দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে আগে থেকে মাখিয়ে রাখা মাছ দিয়ে মেখে আরও ১৫ মিনিট রেখে দিন। কলাপাতাগুলো ভালো করে ধুয়ে ৩০ সেকেন্ডের জন্য চুলার আগুনে সেঁকে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়।
এতে পাতাগুলো নরম হবে ফলে মাছ মোড়ানোর সময় পাতা ফেটে যাবে না। এবার ১৫ মিনিট হয়ে গেলে কলা পাতায় ১ টুকরা মাছ কিছুটা মসলা এবং ওপরে ১ টা কাঁচামরিচ দিয়ে ভালোভাবে মুড়িয়ে সুতা দিয়ে বেঁধে দিন।
এরপর একটি হাঁড়িতে পানি গরম করে ওপরে ঝাঁজরি দিয়ে পাতুরি সাজিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। এভাবে পাতুরিগুলোর প্রতি পিঠে ১০-১২ মিনিট স্টিম করে নিতে হবে। আপনি চাইলে ফ্রাই প্যানে কিছুটা তেল দিয়ে পাতুরিগুলো ভেজেও নিতে পারেন। সবশেষে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।