ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ‘প্রাণঘাতী’ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট।
ঝড়জনিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত লুইজিয়ানায় অন্তত দুজন এবং টেক্সাস, টেনেসি ও কানসাসে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎবিভ্রাট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল নাগাদ আট লাখের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন ছিল। এ ছাড়া ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যে জানা গেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এই শীতকালীন ঝড়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ভারী তুষারপাত, বরফ জমা এবং হিমশীতল বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। প্রায় ১৮ কোটি মানুষ—যা দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি—এই ঝড়ের সরাসরি প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারেন।
লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে হাইপোথার্মিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে হাইপোথার্মিয়া দেখা দেয়। টেক্সাসের অস্টিন শহরের মেয়র জানিয়েছেন, তীব্র ঠান্ডার কারণে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। কানসাসে তুষারে ঢাকা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঠান্ডাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। টেনেসিতেও ঠান্ডাজনিত কারণে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, টেনেসিতে শনিবার অন্তত পাঁচজন মারা গেছেন, যদিও তাঁদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী শীতকালীন ঝড় হতে পারে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি ‘হাড় কাঁপানো ঠান্ডা ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’।
কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জানিয়েছেন, সেখানে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বরফ জমছে এবং তুলনামূলক কম তুষারপাত হচ্ছে, যা অঙ্গরাজ্যটির জন্য উদ্বেগজনক।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, ঝড়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বরফ জমা। এতে গাছ ভেঙে পড়তে পারে, বিদ্যুৎলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সড়কে চলাচল মারাত্মকভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ভার্জিনিয়া ও কেন্টাকিতে ইতিমধ্যেই শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা সামাল দিতে হয়েছে।
এই ঝড়ের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী কানাডাতেও। সেখানে ভারী তুষারপাতের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অন্টারিও প্রদেশে ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বহু স্কুলে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মার্কিন সিনেটও সোমবার সন্ধ্যার জন্য নির্ধারিত ভোট স্থগিত করেছে। রাজধানী ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা জারি করে মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেন, “এই সপ্তাহান্তে ডিসি দশকের সবচেয়ে বড় তুষারঝড়ের মুখোমুখি হচ্ছে।”
উত্তরের নর্থ ও সাউথ ডাকোটা কিংবা মিনেসোটার মতো রাজ্যের মানুষ শূন্য ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রায় অভ্যস্ত হলেও টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও টেনেসির মতো অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের চরম ঠান্ডা বিরল। বর্তমানে এসব এলাকায় মৌসুমের গড় তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা বিরাজ করছে।































