অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু: পেছানোর দাবি প্রত্যাখ্যাত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু: পেছানোর দাবি প্রত্যাখ্যাত

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে মেলা আয়োজনের এই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকলেও প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশকদের মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার করেছে।

 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি অফিসিয়াল বার্তায় জানানো হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আসন্ন পবিত্র রমজানুল মবারকের বিষয়গুলো বিবেচনা করে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী স্টল ভাড়ায় এই ছাড়ের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পরিচালক মো. আবুল বাশার ফিরোজ শেখ গণমাধ্যমে জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশকদের জন্য পূর্বনির্ধারিত চড়া স্টল ভাড়া পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। সমিতির পক্ষ থেকে বহুবার স্টল ভাড়া যথাসম্ভব কমানোর আবেদন জানানো হয়েছিল, যা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সাদরে গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দূর করেছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রকাশকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বইমেলার সফলতা নিশ্চিত করতে ভাড়া কমানোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্টল বরাদ্দ এবং ভাড়া সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

 

২৬২ জন প্রকাশক ঈদুল ফিতরের পর মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও বাংলা একাডেমি তা নাকচ করে দিয়েছে। অধ্যাপক আজম স্পষ্ট করে বলেন, অমর একুশে বইমেলা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই এই প্রাণের মেলা শুরু হবে। এর আগে নির্বাচন বিবেচনায় মেলা ডিসেম্বরে এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে তা স্থগিত হয়। নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ ঘোষণার পর সব পক্ষের সম্মতিতে ২০ ফেব্রুয়ারি মেলার উদ্বোধনের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে।

 

বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। ইতোমধ্যে পাঁচশতাধিক প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। মেলার আয়োজকদের মতে, প্রস্তুতির অন্তত ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্টল নির্মাণ শেষ হবে। প্রকাশকরা মেলার সময়সীমা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেও স্টল ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তে অধিকাংশের মধ্যেই স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

একদিকে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনের তাপ, অন্যদিকে পবিত্র রমজান—এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলা একাডেমি অমর একুশের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মেলকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিআইপি লাউঞ্জ, শিশু কোণ, খাবারের স্টল এবং পর্যাপ্ত আলো-বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও ব্যবস্থা করা হবে।

 

অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রতীক। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই মেলা বাঙালির বইপ্রেমের অটুট প্রতিজ্ঞা বহন করবে। প্রকাশক-লেখক-পাঠকের সমন্বয়ে এই মেলা আবারও সাংস্কৃতিক উৎসবের রূপ নেবে।

কথাপ্রকাশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!