যুক্তিতর্ক সম্পন্ন

আবু সাঈদ হত্যা মামলায়  রায় যেকোনো মুহূর্তে 


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
আবু সাঈদ হত্যা মামলায়  রায় যেকোনো মুহূর্তে 

জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আইকনিক শহীদ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২)-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের অধীনে চলা এই মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়েছে। আদালত মামলাটি রায় প্রকাশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখে যেকোনো দিন, এমনকি যেকোনো মুহূর্তে রায় ঘোষণা করতে পারে। মঙ্গলবার আইসিটি সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। এই রায় গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি বিচারের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য ড. মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৪ জন পলাতক, যার মধ্যে সাবেক উপাচার্য অন্তর্ভুক্ত। গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামি হলেন: সাবেক প্রক্টর মো. শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রাফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। এরা সবাই কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ৩০ জুন অভিযোগ আমল এবং ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক চার্জ ফ্রেম গঠন করা হয়। মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং ১৭টি আলামত রেকর্ড করা হয়েছে।

 

২৭ আগস্ট ২০২৫ বিচার শুরু। ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তদন্তকর্তা রুহুল আমিনের জেরা শেষ। ২২ জানুয়ারি প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্কে সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, মেডিকেল রিপোর্ট, পোস্টমর্টেম প্রমাণসহ আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করেন। প্রসিকিউশন সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। আইসিটি-২-এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ (সদস্য নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর) রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছে।

 

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের ক্লাসিক ব্লক এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২১) পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অসহায় অবস্থায় সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশ সদস্যরা কাছ থেকে তার বুকে একের পর এক গুলি করে। এই নৃশংসতা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী চরিত্রে পরিণত হন। প্রসিকিউশনের দাবি, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ছাত্রলীগের সঙ্গে ছাত্রদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়ান, তারপর আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র কাছ থেকে গুলি করেন। সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হন। ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ আবু সাঈদের পরিবার ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে, পরে ৩০ জনে বাড়ানো হয়।

এই রায় শুধু আবু সাঈদের পরিবারের ন্যায়বিচার নয়, গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি জাতীয় বিচারের পরিণতি হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করবে। আইসিটির রায় ঘোষণা সারাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

Link copied!