মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে তিনি গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত থামিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাত পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারত। এবার তিনি বলেন, সংঘাতের সময় ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার ‘ফক্স বিজনেস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি আটটি যুদ্ধ মিটমাট করেছি। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি থেমেছে শুল্কের কারণে। আমি বলেছিলাম, যদি তোমরা এই যুদ্ধ না মেটাও, তবে আমি তোমাদের ওপর শুল্ক চাপিয়ে দেব। আমি মানুষকে মরতে দেখতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। এটি পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারত বলে আমার মনে হয়েছে।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, শরিফ নাকি বলেছেন—“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের লড়াই থামিয়ে অন্তত এক কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।” তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন কোনো যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ১০ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ ‘পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক’ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এরপর থেকে তিনি ৮০ বারের বেশি ভারত–পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছেন।
তবে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার সংখ্যা নিয়ে তাঁর বক্তব্যে পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথমে পাঁচটি, পরে সাতটি, তারপর আটটি এবং এখন ১০টি বিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা বললেন তিনি। কোন দেশের বিমান ভূপাতিত হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
ভারতের অবস্থান
ভারত বরাবরই সংঘাত বন্ধে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার কথা অস্বীকার করে আসছে। নয়াদিল্লির অবস্থান—দুই দেশের বিরোধ দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানযোগ্য।
গত বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নিহত হন। ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ৭ মে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালায় ভারত। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। কয়েক দফা উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।
বাণিজ্য প্রসঙ্গ
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গত ৫০ বছরের ‘প্রত্যেক’ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘অদক্ষ’ আখ্যা দিয়ে নিজেকে দক্ষ আলোচক হিসেবে দাবি করেন। আর্মেনিয়া–আজারবাইজান সংঘাত নিয়েও তিনি মধ্যস্থতার কৃতিত্ব দাবি করেন।
ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কিছু সদস্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নীরব।







































