সৌদি আরবে উটের জন্য ‘পাসপোর্ট’ চালুর উদ্যোগ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
সৌদি আরবে উটের জন্য ‘পাসপোর্ট’ চালুর উদ্যোগ

সৌদি আরব সরকার দেশটির লাখ লাখ উটের জন্য বিশেষ ‘পাসপোর্ট’ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। উটের বিশাল পালকে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থাপনা এবং খাতটির কার্যকারিতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উটের জন্য পাসপোর্ট চালু হলে উট পালন খাতে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি উটসম্পর্কিত একটি নির্ভরযোগ্য ও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পাসপোর্টের নমুনায় দেখা যায়, সবুজ রঙের ওই পাসপোর্টে সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীক ও একটি সোনালি উটের ছবি সংযোজিত রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আল আখবারিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এই পাসপোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে উট কেনাবেচা ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এটি উটের মালিকানা নিশ্চিত করবে এবং মালিকদের অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে উট ব্যবসার লেনদেনকে আনুষ্ঠানিক নথির আওতায় আনা হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সৌদি আরবে উটের সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ।

আরব উপদ্বীপে হাজার বছর ধরে উট পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শুধু যাতায়াত নয়, উটকে আভিজাত্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। বর্তমানে সৌদি আরবে উট একটি লাভজনক বাণিজ্যিক শিল্পে পরিণত হয়েছে।

দেশটিতে প্রতিবছর উটের বিশাল উৎসব ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের প্রিয় উটের পেছনে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেন। তবে প্রতিযোগিতায় জয়ের জন্য অতীতে কৃত্রিম রূপচর্চা বা অবৈধ পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্তৃপক্ষ উটের ঠোঁট ঝোলানো, কুঁজ সুঠাম করতে ইনজেকশন প্রয়োগসহ সব ধরনের কসমেটিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা উটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে।

উট আরব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায়, সৌদি আরবের পাহাড়ি এলাকায় খোদাই করা ঘোড়া ও উটের বাস্তব আকারের ভাস্কর্য প্রায় সাত হাজার বছরের পুরোনো, যা এই প্রাণীর সঙ্গে আরব সভ্যতার দীর্ঘ সম্পর্কের সাক্ষ্য দেয়।

Link copied!