কাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুই ধরনের ভোটের সুযোগ রয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন, তিনি ‘না’ ভোটের পক্ষে। ফেসবুক পোস্টে তিনি তাঁর এই মতামত ব্যক্ত করেছেন।
‘না’ ভোটের পক্ষে আহ্বান জানানোর পেছনে আপনার যুক্তি কী—এমন প্রশ্নে ন্যান্সি বললেন, ‘হ্যাঁ ভোটে যতগুলো পয়েন্ট আছে, সব কটির সঙ্গে আমি একমত নই। এখানে যতগুলো পয়েন্ট আনা হয়েছে, সব আলাদা করা উচিত ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের টাকায় যে প্রচারণা চালানো হয়েছে, সেখানে তাদের বলে দেওয়া দরকার ছিল—গণভোটে “হ্যাঁ” হলে এই এই হবে, “না” হলে এই এই হবে। এটা কি তারা জানিয়েছে? তারা শুধু এটাই প্রচার করেছে, “হ্যাঁ” হলে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করা হবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, জুলাইয়ের চেতনা কার? এরপর আবার মানুষ এসে প্রশ্ন করে, জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি। জুলাই কি আমার অর্জন না? জুলাইকে নির্দিষ্ট একটা দলের কেন বলা হচ্ছে! জুলাই তো কারও একার নয়। আমার সোজা কথা, সরকার গণভোটে “না”–এর অপশন রেখেছে, সবকিছু মিলে আমার কাছে মনে হয়েছে, “না” অপশনে যেতে চাই, দ্যাটস ইট।’
আপনার ফেসবুক পোস্টে কেউ কেউ এমন সিদ্ধান্তের বিপরীতে মতামত দিয়েছেন, এমন প্রসঙ্গ উঠতেই ন্যান্সি বললেন, ‘এটা আমি দেখেছি। যারা আক্রমণ করছে, এদের প্রোফাইলে গেলে দেখা যায়, তাদের নিজস্ব কোনো ছবি নেই। তাদের নিজের কোনো নাম-পরিচয় নেই। “সত্যের সন্ধানে”, “আলোর পথে”, “আমি তারা হবো”—এ ধরনের সব আইডিতে ভরা, তাদের মন্তব্যই বেশি। প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কে? তাদের মতামত আমি গুরুত্বের সঙ্গে কেন নেব। গুরুত্বপূর্ণ কেউ হলে তাহলে হয়তো ভাবতাম, বিবেচনা করতাম। হয়তো ভাবতাম, না বুঝে আমি আবেগে ভুল করে ফেলছি। আমাকে তো সে রকম কেউ বলছে না যে যার জন্য আমি ভাবব আমি ভুল। বরং এটা বলব, যারা শিক্ষিত সমাজ, যাঁরা কিছুটা জ্ঞান রাখেন, রাজনীতির চর্চা করেন, দেশ-সমাজকে নিয়ে ভাবেন এবং সচেতন, তাঁরা সবাই গণভোটে “না”–এর পক্ষে।’
কেন এমনটা আপনি মনে করছেন? ‘আমি মনে করছি না, আমার নিজেরও তো একটা সমাজ আছে, যাদের সঙ্গে আমি চলি, তাদের সবার মনোভাব এমনই। এসবের মধ্যে “দিশেহারা পথিক” বা নাম-পরিচয়হীন কেউ আমাকে নিয়ে কী লিখল, তার চেয়ে নাম-পরিচয়সংবলিত একজন সচেতন মানুষ কী লিখেছে, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরি। এখন ফেসবুকে বুলিং করাটাও কিন্তু কারণে–অকারণে বেড়ে গেছে,’ বললেন ন্যান্সি।
কিসের ভিত্তিতে আপনার এমনটা মনে হলো—এমন প্রশ্নে ন্যান্সি বললেন, ‘ফেসবুকে এ ধরনের বুলিং আগেও ছিল, তবে এখন তা খুবই ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। এখন যারা ফেসবুকে বুলিং করে, তারা এত বেশি অসহিষ্ণু যে কিছুই যেন তাদের কারণে বলা যায় না। একটা গ্রুপের মতের বিরুদ্ধে গেলেই একদল আইডি এসে হামলে পড়ে। আগে যেমন দেখা যেত, ১০০ মন্তব্যের মধ্যে ৩০টায় হয়তো নেতিবাচক কথা শুনেছি। এর মধ্যে হয়তো যারা আমার কথার সঙ্গে একমত হয়নি, তারা আমার সঙ্গে কথাই বলেনি অথবা দ্বিমত পোষণ করছে। দ্বিমত এক জিনিস আর গালাগালি করা আরেক জিনিস। বাবা-মায়ের সঙ্গেও তো সব বিষয়ে আমরা সব সময় একমত পোষণ করি না। কিন্তু এই যে বুলিং করা, গালি দেওয়া, পরিবারসহ ভয়ংকরভাবে আক্রমণ করা—২০২৪–এর জুলাই–পরবর্তী সময়ে এটা সবচেয়ে বেশি ঘটছে। এ ধরনের বুলিং যা দেখছি, তেমনটা আগে কখনোই ছিল না। আগে ১০০ মন্তব্যের মধ্যে ৩০টা গালি দেওয়া বা দ্বিমত থাকলে এখন ১০০ মন্তব্যের মধ্যে ৮০টাতে গালি থাকে। এসব মন্তব্য পড়া যায় না—খুবই অরুচিকর, ভয়ংকর অশ্রাব্য ভাষার।’
এর আগেও একবার ফেসবুক পোস্টে ‘না’ ভোটের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানান ন্যান্সি। তখন তিনি লিখেছিলেন, ‘গণভোটের আয়োজন করবেন! ভোট “হ্যাঁ” বা “না” হবে, সেটাও নিজেরাই ঠিক করবেন! তবে এই লোকদেখানো গণভোট কাদের জন্য?’ প্রসঙ্গটি মনে করিয়ে দিতে ন্যান্সি বললেন, ‘আমার পরিষ্কার কথা, আপনি যদি “হ্যাঁ” ও “না” দুটি অপশন রাখেন, সেখানে দেশের জনগণের যা খুশি তা–ই বেছে নেবে, এটাই তাদের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা। আমি খুব সাদামাটাভাবে একটা কথা বলতে চাই—বিএনপি যখন প্রচারণা চালাচ্ছে, তখন তারা কী করেছে, করতে চায়, সেসব চিন্তাভাবনা মানুষের কাছে বলছে। জামায়াত যখন প্রচারণা চালাচ্ছে, তখন তারা কী করছে সেটাই বলছে, এনসিপি তাদেরটা চালাচ্ছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকলে তারাও হয়তো তাদেরটা বলত। প্রশ্ন হচ্ছে, আরেকজনের কথা তো অন্য কেউ বলে দিতে পারবে না। কারও তো কোনো অধিকার নেই অন্যেরটা পছন্দ-অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়া ঠিক করে দেওয়া, চাপিয়ে দেওয়া। কেউ হয়তো আমাকে বোঝাতে পারে, কিন্তু আমার ওপর তো চাপ প্রয়োগ করতে পারে না। আপনি যখন “হ্যাঁ” ও “না” রেখেছেন, এরপর জনগণের যেটা খুশি সেটা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তো তাদেরই হওয়া উচিত।’






































