১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধন গণভোটকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর এটাই প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
প্রথম দিকে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে এগিয়ে দেখা হলেও, শেষ মুহূর্তে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামীও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ইন্ডিয়া টুডে–র একটি বিশ্লেষণ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর তুলে ধরেছে, যা ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
১. অনিশ্চিত বা দোদুল্যমান ভোটার
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে—যথেষ্ট সংখ্যক ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা কাকে ভোট দেবেন।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়—
প্রায় ৪৮.৫% ভোটার এখনও অনিশ্চিত।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের ঐতিহ্যগত ৩০–৪০ শতাংশ সমর্থক কোন দিকে ঝুঁকবেন—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই এই বিশাল ভোটব্যাংক দখলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
২. ভোটার উপস্থিতি বা টার্নআউট
সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হওয়ায় ভোট দেওয়ার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি লাগবে।
নির্বাচন গবেষকদের মতে—
টার্নআউট যদি ৬৫–৬৮% থাকে → বিএনপি জোটকে এগিয়ে রাখছে বিশ্লেষকরা
টার্নআউট যদি ৫৩–৫৮%–এ নেমে আসে → মাঠভিত্তিক সংগঠনশক্তির কারণে জামায়াত লাভবান হতে পারে
৩. নারী ও প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ
ধীরগতি ভোটগ্রহণ, ভিড় এবং সম্ভাব্য উত্তেজনার কারণে নারী ও বয়স্ক ভোটারদের একটি অংশ কেন্দ্রবিমুখ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে সংগঠিত ও ক্যাডার–ভিত্তিক দল হিসেবে জামায়াত নিজস্ব ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে বেশি সক্ষম হতে পারে।
আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় প্রতিযোগিতা মূলত বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা না পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
এর মধ্যেই ভোট দিতে রাজধানী ছাড়ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
শেষ পর্যন্ত ব্যালট যুদ্ধের ফল কোন দিকে যায়—
বিএনপি কি তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলবে, নাকি সুসংগঠিত জামায়াত ভোটের অঙ্ক বদলে দেবে—
তা জানা যাবে আগামীকাল।






























