ইফতারে প্রথমে খেজুর: ধর্মীয় ঐতিহ্যের পেছনে বিজ্ঞান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ইফতারে প্রথমে খেজুর: ধর্মীয় ঐতিহ্যের পেছনে বিজ্ঞান

সূর্যাস্তের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে কোটি মুসলমান খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙেন—এটি শুধু নবীজির সুন্নতই নয়, আধুনিক বিজ্ঞানও এর সমর্থন দেয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি ও পুষ্টির যে চাহিদা তৈরি হয়, খেজুর অত্যন্ত কার্যকরভাবে তা পূরণ করতে সক্ষম।

দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধার
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের মতে, রোজা ভাঙার মুহূর্তে শরীর সবচেয়ে আগে দ্রুত গ্লুকোজ খোঁজে—কারণ এটিই দেহের প্রধান জ্বালানি। খেজুরে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজের প্রাকৃতিক মিশ্রণ থাকায় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে রক্তে শর্করা ও শক্তির মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এর পাশাপাশি জটিল কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি তাৎক্ষণিক শক্তির পর কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী এনার্জিও জোগায়—ফলে ইনসুলিনের হঠাৎ ওঠানামার ঝুঁকিও কম থাকে।

পুষ্টিগুণে অতুলনীয়
প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ৭৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ৭-৮ গ্রাম ফাইবার থাকে। এতে আরও রয়েছে ভিটামিন এ, বি৬, কে, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম—যা দীর্ঘ রোজার পর শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে। বিশেষত পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আয়রন রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে।

হজম সহজ ও অতিভোজন রোধ
খেজুরে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করে, পাকস্থলীকে ভারী খাবারের জন্য প্রস্তুত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রেও খেজুর কার্যকর—ফাইবারের কারণে মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পৌঁছায়, ফলে ইফতারের টেবিলে প্রয়োজনের বেশি খাওয়ার আগ্রহ কমে।

অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ ও ওজন ব্যবস্থাপনা
সারাদিন উপবাসের ফলে অ্যাসিডিটি বা অম্বলের সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক; খেজুর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে এই অস্বস্তি দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করলে দ্রুত শক্তি মেলে এবং অতিভোজনের ঝুঁকি কমে—রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি একটি সহজ কিন্তু কার্যকর কৌশল।

টিপস: ইফতারে তিন থেকে সাতটি খেজুর খেয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে তারপর মূল খাবার গ্রহণ করলে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পাকস্থলীও ভালোভাবে প্রস্তুত হয়।

Link copied!