ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করলেও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ এখনো খালি। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেই অধিবেশনের আগেই স্পিকারের নাম ঘোষণা করা হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার তা সম্ভব নয়, কারণ গত সংসদের স্পিকার ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সদস্য ছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদের মতো জ্যেষ্ঠ একজন সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচনের নজির অনুসরণ করা হতে পারে।
স্পিকার পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং এবারের নির্বাচনেও ওই আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে তিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এবং তার বাবাও একজন সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভাসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেও তিনি এখনো সরকারের বাইরে থাকায় তাকে স্পিকার হিসেবে মনোনীত করার আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামও উঠে এসেছে। সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা এবং দীর্ঘ আইনজীবী অভিজ্ঞতা তাকে এই পদের দৌড়ে রেখেছে বলে দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা, রুলিং প্রদান এবং বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, স্পিকার পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদীয় সমীকরণ ও দলীয় কৌশলের ওপর নির্ভর করবে।

































