• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৪ মুহররম ১৪৪৫

‍‍‘একুশ বছরের আমি আজকের আমাকে দেখে গর্ববোধ করছে’


তপন বকসি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ০৩:৫২ পিএম
‍‍‘একুশ বছরের আমি আজকের আমাকে দেখে গর্ববোধ করছে’

ভারতের হিন্দি সিনেমায় ছয়ের দশকে শাম্মী কাপুর, সাতের দশকে জিতেন্দ্র, ঋষি কাপুর, আটের দশকে মিঠুন চক্রবর্তী, নয়ের দশকে গোবিন্দার পর নতুন সহস্রাব্দে যে ড্যান্সার হিরোর আবির্ভাব হয়েছে, তার নাম হৃতিক রোশন।

১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে হৃতিক রোশনকে আমি প্রথম দেখি মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে, বাবা রাকেশ রোশনের সহযোগী পরিচালক হিসেবে। সেদিন যে ছবিতে তিনি বাবা রাকেশ রোশনকে সহযোগিতা করছিলেন, সেই ছবির নাম ‍‍‘কয়লা‍‍’।

১৯৯৭ সালে ‍‍‘কয়লা‍‍’ রিলিজ হয়। সেদিনের ওই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা কেউ ভাবতে পারিনি তারই বছর তিনেক পর ২০০০ সালে হিন্দি সিনেমার জগতে সাড়া জাগিয়ে নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হবেন হৃতিক রোশন। ২০০০ সালের শুরুতেই সত্যিকারের নায়কোচিত আবির্ভাব হয়েছিল হৃতিক রোশনের। তার অভিনীত সিনেমাটির নাম ছিল ‍‍‘কহনা প্যায়ার হ্যয়‍‍’। বাবা রাকেশ রোশনের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রেই আমার আলাপ হৃতিক রোশনের সঙ্গে। রাকেশ রোশনের ডাকনাম ‍‍‘গুড্ডু‍‍’। তাকেই উল্টে দিয়ে ছেলের আদুরে নাম রাখা হয়েছিল ‍‍‘ডুগগু‍‍’।

সিনেমা পরিবারের ছেলে হিসেবে হৃতিকের মনেও ছেলেবেলা থেকেই অভিনয়ে আসার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু প্রবলভাবে বাদ সেধেছিল তার শরীর। প্রথমত, ছোটবেলা থেকেই হৃতিক রোশনের স্পিচ প্রবলেম ছিল। একটি বাক্য শেষ করার পর পরের বাক্যটি শুরুর মুখে হৃতিক তোতলাতেন। তা ছাড়া হৃতিক রোশনের আরেকটি শারীরিক অসুবিধা ছিল। তিনি ছিলেন স্কোলিওসিসের রোগী। পিঠে কুঁজের সমস্যা, কথা বলতে গিয়ে তোতলানো কুড়ি বছরের ছেলেটিকে নিয়ে মা পিঙ্কি রোশন যখন ডাক্তারের কাছে যান, তখন ডাক্তার মায়ের সামনেই হৃতিককে বলে দিয়েছিলেন, নাচ-গান অ্যাকশনে ভরা অভিনয়জগতে তুমি পা রেখো না। তোমার শরীর এগুলোকে পারমিট করবে না। ডাক্তারের এই কথা শোনার পর হৃতিক যতটা না ভেঙে পড়েছিলেন, তার চেয়েও বেশি জেদি হয়েছিলেন মনে মনে।

ডাক্তারের বলে দেওয়া ফিজিক্যাল ফিটনেসের অনুশীলন হিসেবে হৃতিক একদিন মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজের বাড়ির পেছনে বিচে সকালে জগিং করছিলেন। জগিংয়ের স্পিড বাড়িয়ে যখন তিনি অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, ঠিক সেই সময় হৃতিক বিচের বালুর ওপর চিত হয়ে শোয়ার চেষ্টা করলেন। এবং কী আশ্চর্য!  তিনি তা পারলেন। চোখের ওপর আকাশের দিকে হাত তুলে তিনি সেই মুহূর্তে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন যে অভিনেতা হিসেবে আজই তার পথচলা শুরু।

ছোটবেলাতে শিশুশিল্পী হিসেবে হৃতিক অভিনয় করেছিলেন দাদু জে ওম প্রকাশের চারটিসহ পাঁচটি ছবিতে। বাবা রাকেশ রোশনের ছবিতেও শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন তিনি।

সিনে পাড়ায় দীর্ঘ পথচলায় তার ঝুলিতে রয়েছে ২৪টি সফল ছবি। এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রিলিজ হতে যাচ্ছে হৃতিকের নতুন ছবি ‍‍‘বিক্রম বেধা‍‍’। এটি হৃতিক রোশনের ২৫ নম্বর ছবি, যা ২০১৭ সালে একই নামে তামিল ভাষায় রিলিজ হওয়া এবং ইতিমধ্যেই একটি সফল ছবি। 
অগত্যা মুম্বাইয়ের পিভিআর অডিটরিয়ামে ‍‍‘বিক্রম বেধা‍‍’-এর ট্রেলার লঞ্চে সেই হৃতিক রোশনের মুখোমুখি হওয়া গেল। জানা গেল তার ছেলেবেলা আর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমার কথা।

সংবাদ প্রকাশ: এটা আপনার অভিনয়ের ক্যারিয়ারের পঁচিশ নম্বর ছবি। ‘বিক্রম বেধা’ রিলিজের আগে ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে?

হৃতিক রোশন: ভীষণভাবে মনে পড়ছে। মনে পড়ছে সেই চেম্বারে ডাক্তারের কথা। যেখানে ডাক্তার মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে অভিনয় জগতে আসতে বারণ করেছিলেন। আমার তখন ২১ বছর বয়স। আজ সব বাধা পেরিয়ে আমার অভিনয় জীবনের ২৫ নম্বর ছবির রিলিজে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমি। সবটাই সম্ভব হয়েছে সিনেমাপ্রেমী সাধারণ দর্শকদের ভালোবাসার জোরে। আমার ভক্তদের ভালোবাসায়। আমার ‍‍‘একুশ বছরের আমি‍‍ ‍‍আজকের আমাকে দেখে গর্ববোধ করছে।’

সংবাদ প্রকাশ: করোনার আগেই আপনার অ্যাকশন ফিল্ম ‍‍‘ওয়ার‍‍’ সুপারহিট হয়েছিল। তারপর আপনি আরেকটি ছবি করেছিলেন ‍‍‘সুপার ৩০‍‍’। বিহারের এক ম্যাথমেটিশিয়ানের জীবননির্ভর ছবি। ছবি নির্বাচনের এই বৈচিত্র্যই কি আপনার এখন মূল লক্ষ্য?

হৃতিক রোশন: পৃথিবীর সব জগতের সব বিবর্তনের মতো অভিনয় ক্যারিয়ারেও বিবর্তন আসে। একজন অভিনেতা তার কাজের মধ্যেও সেই বিবর্তন চান। এটা ভেতর থেকে আসে। শুরু থেকেই আমি অভিনেতা হিসেবে যখন গ্ল্যামারসর্বস্ব, লার্জার দ্যান লাইফ ছবিগুলো পরপর করেছি, তখনই আমার ভেতরের আমি বৈচিত্র্য চেয়েছে। তাই আমি ‍‍‘সুপার ৩০‍‍’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছি। আর সেই ছবি যখন ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মন জয় করল, সেই আনন্দকে কোনো মূল্যেই মাপা যায় না। অসাধারণ সেই অনুভূতি। একজন অভিনেতা হিসেবে এটা কত আনন্দের, বলে বোঝাতে পারব না। কিন্তু তাই বলে আমি ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ছবি ছাড়িনি।

সংবাদ প্রকাশ: ‍‍‘বিক্রম বেধা‍‍’ ‍‍‘বেতাল পঞ্চবিংশতি‍‍’ বা ‍‍‘বিক্রম ও বেতাল‍‍’ থেকে নেওয়া। শতাব্দীপ্রাচীন এমন পৌরাণিক কাহিনিকে যখন সমসাময়িক সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়, অভিনেতা হিসেবে তখন সেই ছবি করতে বাড়তি টান অনুভব করেছেন?

হৃতিক রোশন: দুটো কারণে টান অনুভব করেছি। এক, বিক্রম ও বেতালের গল্প যুগ যুগ ধরে সবার মনে রয়েছে। সেটা এমনিতেই সবার মনে বাসা বেঁধে রয়েছে। তার সঙ্গে যদি সমসাময়িক সময়কে মিলিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে সেটা সব জেনারেশনের কাছেই সমানভাবে আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই গল্পে রোমান্স আছে। থ্রিল আছে। সাসপেন্স আছে। অ্যাকশন আছে।  ফ্যান্টাসি আর রিয়েলিটির মিশেল আছে। তাই সাধারণ দর্শকদের কাছে এ রকম ছবির নায়ক হতেই চেয়েছি আমি।
 

Link copied!