অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস জুড়ে একুশের চেতনা, শোক, গৌরব ও অঙ্গীকারের আবহ সৃষ্টি হয়।
একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে যাঁরা আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
পরবর্তীতে সকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে অবস্থিত শহীদ মিনারে প্রোক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মো. আলায়েয়ারের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পূর্বে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের অসামান্য ত্যাগ ও অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও প্রসারে গুরুত্বারোপ করে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, “মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা আত্মত্যাগ, অধিকার ও আত্মপরিচয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চা, সঠিক ব্যবহার এবং ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালি জাতির আত্মদান বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য নজির। এই আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে, যা আমাদের জাতীয় গর্ব ও পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একুশের চেতনা কেবল একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা আমাদের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।”





































