তারেক রহমানের আট জনসভা: শুধু ভোট দিয়ে আসবেন না, হিসাব বুঝে নেবেন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
তারেক রহমানের আট জনসভা: শুধু ভোট দিয়ে আসবেন না, হিসাব বুঝে নেবেন

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দেবেন। ভোটের অধিকার রক্ষায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন ষড়যন্ত্র করে কিছু করতে না পারে। শুধু ভোট দিয়ে চলে আসবেন না, হিসাব বুঝে নিয়ে আসবেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে নিজের আসন ঢাকা-১৭ এর বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনগণের সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। এখন দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য সুন্দর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার দেশের বহু প্রত্যাশিত নির্বাচন। এই নির্বাচনের জন্য দেশের অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছে। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।

গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন
বনানীর জনসভা শেষে ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি মহল, তাদের নেতাকর্মীরা ধরা পড়েছে নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে। তারা বাসাবাড়িতে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করে। বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর চায়। এসব গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে ভোটের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, সেই অধিকার আবার হারিয়ে যাবে।

পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান
দুপুর আড়াইটায় ঢাকা-৮ আসনের পীরজঙ্গি মাজার সড়কে জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই এলাকায় তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। এ সমস্যা শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশে। এর জন্য বিএনপি কর্মসূচি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।

তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে দেশে মিল-কারখানা তৈরি করতে, যেন বেকার সমস্যার সমাধান করা যায়। ঢাকা-৮ আসনসহ যত জেলা আছে সর্বত্র ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং আইটি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। ঢাকা-৮ আসনে খেলার মাঠ নির্মাণ, কবরস্থানের জন্য জায়গা প্রদান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ফজরের পর থেকে ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে ঢাকা-৫ আসনের জনসভায় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে থাকবেন। ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আদায় করবেন। সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন, যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে কিছু করতে না পারে। ১৬ বছর ধরে যারা বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের এক সহযোগী আছে। তারা ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের লোকজন নকল ব্যালট বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে।

এটা দেশ গঠনের নির্বাচন
ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-দয়াগঞ্জ লিঙ্ক রোডে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বলেন, দেশ গড়তে হলে পরিকল্পনা দরকার, অভিজ্ঞতা দরকার। কর্মসংস্থান ছাড়া কোনো দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিএনপিই একমাত্র দল, যাদের কাছে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে বিএনপি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

আগামী নির্বাচনকে শুধু ভোটের নির্বাচন নয়, দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারই কেবল জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারে। তাই বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য শেষে ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক তিনবারের এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদসহ আলেম সমাজের প্রতিনিধি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

পরে ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের পক্ষে ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের পক্ষে লালবাগ বালুর মাঠের পথসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত
নির্বাচনের আগে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, দিনভর নির্বাচনী প্রচার এবং সন্ধ্যায় বিটিভিতে ভাষণ দেওয়ার পর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে যান বিএনপির চেয়ারম্যান।

Link copied!