জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার ব্যাখ্যায় দলটি জানিয়েছে, তাদের ইশতেহার কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়; বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাবনা।
প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক কলামে মাহতাব উদ্দীন আহমেদ এনসিপির নীতি ও ইশতেহার নিয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন করেন, তার জবাবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে ইশতেহারের বিভিন্ন অংশ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সেখানে অনেক বিষয়ই ভুল ব্যাখ্যার ফল।
এনসিপি জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা শিল্পকারখানার দুর্বল নিরাপত্তা কাঠামো সংক্রান্ত ঘটনা ইশতেহারের ‘রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার’ অধ্যায়ে নয়, বরং ‘পরিবেশ, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন’ অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ এসব বিষয় সরাসরি পরিবেশ, নগরব্যবস্থা ও শিল্প নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সহিংসতা প্রসঙ্গেও এনসিপির দাবি—গবেষণায় দেখা গেছে মোট ঘটনার বড় অংশ বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল, তাই এনসিপিকে প্রধান দায়ী করা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নয়।
সরকারি বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা থাকলেও বেসরকারি খাতের বেতন নিয়ে মন্তব্য না করার কারণ ব্যাখ্যা করে এনসিপি বলে—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাজারভিত্তিক কাঠামো রয়েছে, সেখানে সরকারের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে যায় না। সরকারের ভূমিকা ন্যূনতম মজুরি ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা—এটিই ইশতেহারে প্রস্তাব করা হয়েছে।
দুর্নীতিবাজদের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রশ্নে দলটির বক্তব্য—আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণই যুক্তিসঙ্গত।
এনসিপির ব্যাখ্যা—তারা কেবল সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন স্কেলের আওতায় আনতে চেয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হলে সেগুলোকেও একই কাঠামোর আওতায় আনা উচিত।
নাগরিক সেবাকেন্দ্র সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক উল্লেখ করে বলা হয়েছে—এটি ওয়েবসাইটের ফ্রি সেবা প্রতিস্থাপন করবে না। স্থানীয় দোকান থেকে টিসিবির পণ্য বেশি দামে বিক্রি হওয়ার ঝুঁকি নেই, কারণ সব লেনদেন এনআইডি-সংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্টে হবে।
মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো প্রসঙ্গে তারা জানায়—ফ্লোটিং কারেন্সি, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্বচ্ছতা, রিজার্ভ পুনর্গঠন, সরকারি বিনিয়োগ নীতি সংস্কারসহ নীতিগত পরিকল্পনা ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
এ ছাড়া পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে খাতভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ইশতেহারের ৪৮–৫০ পৃষ্ঠায় দেওয়া হয়েছে বলেও দলটি দাবি করেছে।
ইশতেহারটি কোনো প্রলোভনমূলক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং নীতি–ভিত্তিক রাষ্ট্রসংস্কারের কর্মপরিকল্পনা এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে এনসিপি বলেছে,
“সমালোচনা ও ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে তা পূর্ণাঙ্গ পাঠ ও তথ্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।





























