নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মত কর্মবিরতি চলছে। এরইমধ্যে আরও ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।
মঙ্গলবার সকাল ৮ থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার নতুন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিল সংগঠনটি। দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সমাবেশ থেকে আরও ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহীম খোকন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনি ও রোববার ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। কর্মবিরতির কারণে শনিবারও বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
রোববারের কর্মবিরতিতে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে খোলা পণ্য ও কনটেইনার ওঠানো-নামানো কার্যত বন্ধ থাকে। বন্দরে পণ্য খালাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের কভার্ড ভ্যান, লরি, ট্রেলার প্রবেশ বন্ধ আছে, বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে স্থবরিতা দেখা দেয়।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, আমরা তিন দিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মরিতি পালন করেছি। বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতর্স্ফূতভাবে এ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দাবি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো বিকার নেই। সেজন্য আমরা মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছি। এ কর্মসূচি সফল করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি।
তিনি বন্দরের যেসব কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য গত দুই দিনে মোট ১৬ জনকে বন্দর থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানো-নামানো এবং ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) মধ্যে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ এই কর্মবিরতিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে। তাদের দাবি, এনসিটি ইজারার বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তি সই হয়নি।
































