সরকারের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এটিকে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমনটা জানান তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।’
পরবর্তী সরকার এগুলো এগিয়ে না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি কি হবে– জানতে চাইলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'এটি অনুমান নির্ভর প্রশ্ন।'
সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে। কোনো দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন না– এ সমালোচনার জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'দুনিয়ার সব দেশে উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান নাই।'
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ এর ৮ আগস্ট বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার এবং জাতীয় নির্বাচন। তবে অগ্রাধীকারের বাইরে গিয়ে প্রতিরক্ষায় মনযোগী হওয়ার সমালোচনা হয়েছে।
২০২৪ এর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ড্রোন কারখানা তৈরিতে চীনের সঙ্গে জি২জি চুক্তি, পাকিস্তান থেকে জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধ বিমান ক্রয়, চীন থেকে জে–১০ সিই যুদ্ধ বিমান ক্রয়, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধ বিমান ক্রয়, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার, ৬৫০ কোটি টাকায় যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কাজগুলো হাতে নেয়। এছাড়া আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের চেষ্টা চলছে।
































