• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১,

মুখের কালচে দাগ দূর করার উপায়


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৩, ১২:৫০ পিএম
মুখের কালচে দাগ দূর করার উপায়

অনেকের মুখে শুধু কালো দাগ বা কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়তে দেখা যায়। আবার লালচে বা বাদামী রঙের দাগও হয়। ত্বক বিশেষজ্ঞের ভাষায় একে ‘হাইপারপিগমেন্টেইশন’বলা হয়। ফেমিনা ডটইন’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের ত্বক বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক ডা. মানসী শিরোলিকার এই বিষয়ে বলেন, “কালচে ছোপের নানান ধরণ রয়েছে যেমন- ছুলি, মেস্তা, প্রদাহের পরে দাগছোপ এবং কালচে রেখা।” এসব দাগ নানান কারণে হয়ে থাকে যেমন- সূর্যালোক, হরমোনের ওঠানামা, ব্রণ ও ত্বকের প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। আবার চর্মরোগ বা ডায়বেটিসের লক্ষণও হতে পারে মুখের দাগ। মুখের এ দাগ দূর করার জন্য অনেকে লেজার টিটমেন্ট করে থাকে। তবে সেটা অনেক খরচ ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আবার সবসময় এ চিকিৎসা ত্বকের জন্য উপকারীও নয়। ত্বকের কালো দাগ দূর করতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর উপায় সম্পর্কে জানান ডা. মানসী শিরোলিকার। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

ছুলি
ছোট, সমতল, তামাটে থেকে হালকা বাদামি রংয়ের দাগ যা সাধারণত বংশগত প্রবণতা ও রোদে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। যদিও এটা ক্ষতিকর নয়। তবে রোদ থেকে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ ও লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে এর সমাধান করা যায়।

মেছতা
একে বলা যায় ‍‍`গর্ভাবস্থার মুখোশ‍‍`, এটা দেখতে বড় ও গাঢ় রংয়ের হয়ে থাকে। মেছতা সাধারণত, গাল, নাকের ওপরে, অনেকের ঠোঁটের চারপাশেও দেখা দেয়। হরমোনের পরিবর্তন যেমন- গর্ভাবস্থা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়া মেনোপোজের কারণে মেছতা দেখা দেয়। মেছতার চিকিৎসায় যতটা সম্ভব রোদ থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়াও লেজার ও পিলিংয়ের চিকিৎসা গ্রহণ করে মেছতা দূর করা যায়।

পোস্ট ইনফ্লামাটরি হাইপারপিগমেন্টেইশন
প্রদাহ সৃষ্টিকারী বিষয় যেমন- ব্রণের পরে ত্বকে স্থায়ী বা অস্থায়ী দাগ হয়। দাগ কমাতে প্রথমে দাগ পড়ার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। আর উজ্জ্বলতা বাড়ায় এমন উপাদান যেমন- গ্লাইকোলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, ইত্যাদি পিগমেন্টেইশন হালকা করতে সহায়তা করে।

দাগ থেকে মুক্তির উপায়
যেকোনো ধরনের দাগের জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি। অতিবেগুনি রশ্মি হাইপারপিগমেন্টেইশন বাড়িয়ে তোলে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে কমপক্ষে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং দিনে কয়েকবার পুনরায় ব্যবহার করতে হবে। বাজারে টিন্টেড সানব্লক কিনতে পাওয়া যায়। যা পিগ্মেন্টেইশন ঢাকতেও সহায়তা করে। 

টপিকেল উপাদান যেমন- হাইড্রোকুইনন, কজিক অ্যাসিড, আলফা আরবিউটিন, রেটিনল, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি ইত্যাদি দাগ ছোপ হালকা করতে সাহায্য করে।

মৃদু থেকে মাঝারি কালো দাগ তুলতে আলফা হাইডোক্সি অ্যাসিড (এএইচএ) সমৃদ্ধ রাসায়নিক পিলস ত্বক এক্সফলিয়েট করতে সহায়তা করার সাথে উজ্জ্বলও করে। গাঢ় দাগ তুলতে গভীর থেকে পিলিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। 

লেজার ও কড়া লাইট থেরাপি ত্বকের মেলানিনের বিরুদ্ধে কাজ করে বাড়তি পিগমেন্টেইশন কমায়। এতে ত্বকের গভীর দাগ ওঠে ঠিকই, তবে অনেক বেশি সতর্ক থাকার প্রয়োজন হয়। সূর্যালোক থেকে সুরক্ষা ও ঘরোয়া পরিচর্যার মাধ্যমে এই চিকিৎসার সুফল পাওয়া যায়।

প্রেস্ক্রিপশন চিকিৎসায়, ত্বক বিশেষজ্ঞরা পিগমেন্টেইশন বিশেষ করে, মেস্তা বা কড়া ‘পিআইএইচ’য়ের দাগ কমাতে রেটিনয়েড বা কর্টিকোস্টেরোয়েডস ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেকের ত্বক আলাদা। তাই একজনের ত্বকে যা কাজ করে অন্যদের ত্বকে তা কাজ নাও করতে পারে। তাছাড়া ত্বকের দাগ দূর করতে চিকিৎসার পাশাপাশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা আবশ্যক।

এছাড়াও সূর্যের আলো থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি যথাযথ চিকিৎসা এবং ত্বক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Link copied!