• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১, ৮ মুহররম ১৪৪৫

ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের সঠিক উপায় জানুন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৪, ০৫:১৩ পিএম
ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের সঠিক উপায় জানুন
ছবি: সংগৃহীত

ঈদ উল আযহার প্রধান আকর্ষণ পশু কোরবানি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন সরব রয়েছে পশুর হাট। পছন্দের পশু কিনে কোরবানি করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। কোরবানি শেষে শুরু হয় মাংস কাটার কাজ। এরপর প্যাকেট করা, মাংস বিলি করার প্রসেস চলবে। সবশেষে বেঁচে যাওয়া মাংস সংরক্ষণ করা হবে নিজের ঘরে। তাই ঈদের সারাদিনই কাটে ব্যস্ততা মধ্যেই। 

মাংস সংরক্ষণ করা একটু ঝামেলার কাজই বটে। সবকিছু একটু গুছিয়ে করতে হয়। ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের জন্য়ও কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। সঠিক উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করলে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। নয়তো মাংস নষ্ট কিংবা মাংস থেকে দুর্গন্ধ হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়। ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের কিছু নিয়ম জেনে নিন এই আয়োজনে।

  •  মাংস সংরক্ষণের আগে তা কাটা এবং প্যাকেট করার বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। মাংস কাটার উপকরণ দা, বঁটি, চাপাতি, ছুরি আগেই স্যাভলন, গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে মাংসে জীবাণু সংক্রমণ হয় না। মাংসও নষ্ট হবে না। যে প্যাকেটে মাংস রাখা হবে তাও পরিষ্কার করে রাখুন।
  • মাংস বণ্টনের পরই বেঁচে যাওয়া মাংস ফ্রিজে তোলার ব্যবস্থা করুন। ফ্রিজে ওঠানো দেরি হলে মাংস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে কোরবানির মাংস গরম থাকে। তাই বেশি তাড়াহুড়াও করা যাবে না।
  • ফ্রিজে তোলার আগে মাংসের গায়ে বাড়তি রক্ত লেগে রয়েছে কি না তা দেখে নিন। অতিরিক্ত রক্ত কিচেন টাওয়েল বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
  • ফ্রিজে সংরক্ষণ করার আগে মাংস কোনোভাবেই পানিতে ভেজানো বা ধোয়া যাবে না। বরং অতিরিক্ত পানি বা রক্ত ঝড়িয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।
  • মাংসের প্যাকেট গোছানোর সময় খুব আঁটসাঁট করে ফ্রিজে রাখা যাবে না। আবার ফ্রিজে চাটাচাপি করেও মাংস সংরক্ষণ করা যাবে না।
  • ডিপফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের পরই তাপমাত্রায় কমিয়ে দিন। সবচেয়ে নিম্ন তাপমাত্রায় মাংস সংরক্ষণ করুন। ডিপফ্রিজে  স্বাভাবিক তাপমাত্রায় মাংস ৫-৭ মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।
  • ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংসের প্যাকেটগুলো জিপটাইট হলে ভালো হবে। মাংসের প্যাকেটগুলো চ্যাপ্টা আকারে করে রাখতে পারেন। এতে অনেক প্যাকেট মাংস সংরক্ষণ করা যাবে।
  • সংরক্ষিত মাংসের প্যাকেট লেবেল বা ট্যাগ লাগিয়ে রাখতে পারেন। কিমা, কলিজা, মগজ, মাথার মাংস এবং অন্যান্য সবগুলো আলাদাভাবে ট্যাগ লাগিয়ে রাখুন। রান্নার সময় খুঁজে বের করে নিতে সুবিধে হবে।
  • ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংসের প্যাকেট এমনভাবে করতে হবে যেন একদিনেই রান্না করা যায়। তাই পরিবারের সদস্য অনুযায়ী মাংসের প্যাকেটের আকার ঠিক করুন। 
  • ফ্রিজ থেকে বের করে মাংস ছুটিয়ে কিছুটা রান্না করার পর বাকিটুকু আবার ফ্রিজে রেখে দেন অনেকে। এটা ঠিক নয়। এতে মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয় এবং জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
  • মাংসের প্যাকেট একেবারেই আটসাট করবেন না। এতে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্যাকেটের মোটামুটি অর্ধেকটা অংশ খালি রাখতে হবে।
  • ফ্রিজের তাকে একটা প্যাকেট রেখে এর ওপর খবরের কাগজ বিছিয়ে নিন। এরপর আরেকটি প্যাকেট রাখুন। প্রতিটি প্যাকেট স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখুন। এতে একটি প্যাকেট অন্যটির সঙ্গে লেগে যাবে না।
  • ফ্রিজের মাংস রাখার প্রক্রিয়াটাও ঠিক হতে হবে। যেগুলো আগে রান্না হবে সেগুলো উপরের দিকেই রাখুন। আর পরের রান্না করা মাংস নীচের দিকে রাকুন। মগজ, কিমা, কলিজা, ছোট মাংস ফ্রিজের উপরের দিকে রাখতে পারেন। বড় হাড়ওয়ালা মাংসের প্যাকেট নীচের দিকে রাখুন। এতে মাংসের ভারে ছোট প্যাকেটগুলো পিষ্ট হবে না।
  • ফ্রিজে গরুর মাংস ৬ মাস, খাসির মাংস ৫ মাস পর্যন্ত রাখা যাবে। কলিজা বেশি দিন রাখা যাবে না। দ্রুত রান্না করে ফেলুন। উট, মহিষের মাংস ৪ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। ভেড়ার মাংস রাখা যাবে ৩ মাস পর্যন্ত।
Link copied!