ভারতে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ভারতে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা

ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এশিয়াজুড়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মারাত্মক এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এশিয়ার কয়েকটি দেশের বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে উচ্চ সতর্কতা ও কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা। খবর জানিয়েছে বিবিসি।

চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁদের সংস্পর্শে আসা অন্তত ১১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে এবং এর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মৃত্যু হতে পারে। বর্তমানে এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ভারতে নিপাহ ভাইরাসের বিস্তারে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে থাইল্যান্ডের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের অতিরিক্ত স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।

এছাড়া ভারতের আরেক প্রতিবেশী দেশ নেপালও সতর্কতা জোরদার করেছে। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত যাত্রীদের ওপর বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দরগুলোতেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, নিপাহ ভাইরাস সাধারণত বাদুর ও শূকর থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। দূষিত খাবারের মাধ্যমে বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শেও ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিপাহ ভাইরাসকে বিশ্বব্যাপী উচ্চঝুঁকির ১০টি রোগের একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এটিকে ভবিষ্যতে মহামারিতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ দেখা না দিলেও সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বমি এবং গলা ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা যায়। গুরুতর অবস্থায় রোগীর তন্দ্রাচ্ছন্নতা, চেতনায় পরিবর্তন, নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ এনসেফালাইটিস হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার শূকর খামারিদের মধ্যে প্রথম নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়, যা পরে সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়ে। যে গ্রামে প্রথম এই ভাইরাস ধরা পড়ে, সেই গ্রামের নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়।

Link copied!