ভূমধ্যসাগরে একাধিক জাহাজডুবি

 কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ ও নিহত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
 কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ ও নিহত

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে গত ১০ দিনে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক জাহাজডুবির ঘটনায় কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন অথবা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা।

সোমবার এক বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানায়, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থাটির ভাষ্য, এই ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করছে যে ভূমধ্যসাগরীয় এই রুটটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন করিডোরগুলোর একটি।

আইওএম জানায়, তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স বন্দর থেকে রওনা হওয়া একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে ইতালির ল্যাম্পেডুজা দ্বীপে নেওয়া হয়। সেখানে এক বছর বয়সী দুই যমজ শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। যমজ শিশু দুটির গিনিয়ার নাগরিক মা বেঁচে গেলেও তাঁর দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, শিশুগুলো হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। একই কারণে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আইওএমের বরাতে জানা গেছে, ওই নৌকার বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্ফ্যাক্স থেকে তাদের সঙ্গে আরেকটি নৌকাও যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু সেটি আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। নৌকাটির যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো অজানা।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় হ্যারির প্রভাবে ভূমধ্যসাগর উত্তাল হয়ে থাকায় গত ১০ দিনে বেশ কয়েকটি নৌকা নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কয়েকশ মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে।

আইওএম আরও জানিয়েছে, মাল্টার কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়া আরেকটি নৌকার কয়েকজন যাত্রীকে উদ্ধার করেছে। তবে ওই নৌকার অন্তত ৫০ জন আরোহী এখনো নিখোঁজ বা নিহত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পৃথক আরেক ঘটনায় লিবিয়ার বন্দর শহর তব্রুকের উপকূলে একটি জলযান ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আইওএম।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সমুদ্রযাত্রার জন্য অনুপযুক্ত নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে অভিবাসীদের পাচার করা একটি গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে তীব্র ঝড়ের মধ্যে মানুষকে সমুদ্রে পাঠানো আরও নিন্দনীয়, কারণ এতে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় নিশ্চিত হয়ে ওঠে।

আইওএমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর (২০২৫) ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলে অন্তত ১ হাজার ৩৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন।

Link copied!