ভারতে নিপাহ প্রাদুর্ভাব


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ভারতে নিপাহ প্রাদুর্ভাব

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে থাইল্যান্ড, নেপাল এবং তাইওয়ানের মতো দেশগুলো তাদের বিমানবন্দরগুলোতে করোনা মহামারীর সময়ের মতো কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থা পুনরায় চালু করেছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের একটি হাসপাতালে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর অন্তত ১০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়া গেছে যে, দুইজন নার্স (একজন পুরুষ ও একজন নারী) আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালের আরও একজন ডাক্তার ও একজন কর্মীসহ মোট পাঁচজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে।

এ ঘটনার পরে থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। ব্যাংককের সুবর্ণভূমি, ডন মুয়াং এবং ফুকেট বিমানবন্দরে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি কোনো যাত্রীর শরীরে উচ্চ জ্বর বা নিপাহর লক্ষণ দেখা যায়, তবে তাকে সরাসরি কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য ‘শিকার করবেন না, বনের ফলমূল খুঁজবেন না বা খাবেন না’ নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নেপাল সরকার ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ভারতের সাথে স্থল সীমান্তগুলোতে স্বাস্থ্য ডেস্ক স্থাপন করেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী কোশি প্রদেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তাইওয়ানের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) নিপাহ ভাইরাসকে উচ্চতর ক্যাটাগরির সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তারা বর্তমানে 'ইয়েলো' বা হলুদ সতর্কতা জারি রেখেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস যা মূলত বাদুড় বা শুকর থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। তবে এটি মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেক বেশি—আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

Link copied!