ডাকাতিয়া নদী। এই নদীর তীরে নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ। নদীর দক্ষিণ পাড়ে মোহাম্মদপুর গ্রাম। এই গ্রামে জীবনের প্রথম লজিং ছিলাম। ছোট মামা ঠিক করে দিয়েছিলেন। আজ একটা গোপন কথা বলি: আশ্রয় বা পড়ার সুবিধার জন্য সেখানে যাইনি, গিয়েছি পরিবার থেকে আলাদা থেকে ভাব দেখাতে- এই দেখো আমি কত্ত বড় হয়ে গেছি। তারা ভালো পরিবার। একবেলা নাস্তা দুই বেলা গরম ভাত। রাজা নৃপেন্দ্রনাথের নাতি আর কি? যেই রাজার নাম লিখলাম তিনি কোথাকার রাজা সেটা অবশ্য জানি না! খাই ঘুমাই। বিকালে ছাত্রদের সাথে উঠানে ক্রিকেট খেলি। কি পড়াই জানি না! সকাল আর সন্ধ্যায় সামনে বই ধরিয়ে বলি- পড় পড়। নিজে জানলে তো পড়াবো! যে জন্য এই শিবের গীত গাইছি। যখন লজিং থেকেছি তখন একাদশ শ্রেণীতে পড়ি। ওইখানে ৮মাস থেকেছি। কয়েক বছর পরের ঘটনা। একদিন নানাদের গ্রামের এক বাড়ির উঠানের ওপর দিয়ে হাঁটছি। একজন ঘোমটা পরা নারী দৌড়ে এসে সালাম শুরু করলেন। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। পরে ওই নারী পরিচয় দিলেন-তিনি আমার ছাত্রী। তিনি কৃতজ্ঞতা জানাতে লাগলেন। পরে চিনতে পারলাম। পাশের বাড়ি থেকে এসে পড়তেন। কি পড়িয়েছি জানি না,তবে পরিবার ও শিক্ষকদের নিকট ব্যক্তি জীবনের আচরণ তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা ছিলো। সেটাকে ওই ছাত্রী আমলে নিয়েছে। যাক এক সুযোগে নিজের ঢোল পিটিয়ে নিলাম। তবে এই স্মৃতি মনে রাখার মতো। যারা নিয়মিত শিক্ষক, তাদের নিশ্চয় এরকম আনন্দের স্মৃতির মাঝেই দিন কেটে যায়। অভিযোগ আছে-সুযোগ কম তাই মেধাবীরা শিক্ষকতায় তেমন আসেন না। এই খরা কাটাতে হবে।
দুই
এক বছর অগ্রহায়ণ মাস। আমাদের গ্রামে বলে আঘুন মাস। পেটে আগুন লাগা অভাবী মাস। আমাদের জমির ধানের চাউল শেষ হয়ে যায়। সে বছর সম্ভবত আব্বা বেশি ধান বিক্রি করে ফেলেছিলেন। আব্বার যে কি পেরেশানি দেখিছি! তিনি কি করবেন বুঝতে পারছেন না। তিনি নিয়ে এলেন এক বস্তা চাউল। তখন গ্রামে কেউ বস্তা ভর্তি চাউল কিনতেন না। চাউল দিনে এনে দুই বেলা খেতেন। যারা অবস্থা সম্পন্ন তারাও ৫-১০কেজি চাউল কিনতেন। তখন হাইস্কুলে পড়ি। তখন আব্বার উদ্বেগ বুঝিনি। এখন বুঝি। কৃষি আর শিক্ষা প্রিয় বিষয়। তাই বলি-এই দুই ক্ষেত্রে মনোযোগ না দিলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। কথিত নিরামিষ কৃষি বিষয় নিউজ বেশি লেখা হয়। এনিয়ে অনেকে বলেন-আলু পটলের সাংবাদিক। মজা পাই। যাক একটা স্বীকৃতি তো মিললো!
তিন
আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। বিএনপির রাজনীতি করেন। তার বিনয় নজরকাড়া। মজার বক্তব্য দিয়ে মাতিয়ে রাখেন। কারো ওপর হমলার নজির চোখে পড়েনি। গতানুগতিক রাজনীতিতে এটা বিরল। তিনি প্রায়ই বলে বেড়ান-আমার দ্বারা কারো ক্ষতি হবে না। তিনি সাউথ আফ্রিকায় ফসল আবাদ করেন। দেশের কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে চাষাবাদ করেন। কুমিল্লার গ্রামের নারীদের দিয়ে জুতা বানিয়ে ইউরোপ থেকে আয় করেন। সেই টাকায় রাজার মতো রাজনীতি করেন। দলের মনোনয়ন পাননি, স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে গেছেন। সেখানেও দল তাকে বসিয়ে দিয়েছে। এনিয়ে তার সমর্থকসহ সাধারণ মানুষ আশাহত হন। অবশেষে দল তাকে মূল্যায়ন করেছে। যেখানে মনোনয়ন পান না, সেখানে তিনটা মন্ত্রণালয় ধরিয়ে দিয়েছেন। কৃষি,খাদ্য,মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তিনি মন্ত্রী হওয়ার পর কেউ কেউ টিপ্পনি কেটে বলেছেন-তোমার কৃষি বিষয়ের মন্ত্রী। কৃষি উদ্যোক্তা কৃষি মন্ত্রী হয়েছেন সেটা সরকারের ভালো চয়েজ বলা যায়। কৃষক,মাঠ ও অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মূল্য়ায়ণ হোক। উৎপাদন বাড়ুক। আমদানি নির্ভরতা কমুক। তিনি সফল হোন, কৃষির হাত ধরে জেগে উঠুক প্রিয় স্বদেশ।
এদিকে কচুয়ার সন্তান এহছানুল হক মিলন একবার দেশের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। তার সময় শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আসা শুরু হয়। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। ওই দিন যেভাবে লাফ দিয়ে সংসদে ঢুকেছেন- তা দেখে মনে হলো তার ফিটনেস আগের মতোই আছে। তিনি শিক্ষায় আরো বেশি সফল হবেন সেই প্রত্যাশা করছি।
মহিউদ্দিন মোল্লা- লেখক, সাংবাদিক








































