গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার, নেপাল কিংবা ইতালির মতো দলের সামনেও নাভিশ্বাস ওঠা দশা—ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা হয়তো টান পড়েছিল।
কিন্তু কলম্বোর মন্থর উইকেটে কাল যেন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পুনর্জন্ম হলো হ্যারি ব্রুকদের । স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৪৬ রান নিয়েও সেটাকেই শ্রীলঙ্কানদের জন্য এভারেস্ট বানিয়ে ছাড়ল ইংল্যান্ড। ৫১ রানের দাপুটে জয়ে শুধু সুপার এইটে দারুণ শুরু হলো ইংল্যান্ডের, এই ফরম্যাটে লঙ্কানদের বিপক্ষে এটি তাদের টানা ১২তম জয়ও।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তটা লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকার জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছিল। ঘরের মাঠের পরিচিত কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে শুরুতেই ইংলিশদের চেপে ধরে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ারপ্লেতে ৩৭ রান তুলতেই নেই ২ উইকেট। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে দুনিত ভেল্লালাগের বলে যখন এলবিডব্লু হলেন জস বাটলার, ড্রেসিংরুমে তখন শঙ্কার মেঘ। জ্যাকব বেথেলও টিকলেন না, মহীশ তিকশানার বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন প্রথম বলেই। টম ব্যান্টন রানআউট হলেন শানাকার সরাসরি থ্রোতে।
সেই বিপর্যয়ের মুখে বুক চিতিয়ে লড়লেন শুধু ফিল সল্ট। ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া এই ওপেনার খেললেন ৬২ রানের ইনিংস। তবে গরম আর শারীরিক ক্লান্তিতে এক সময় খেই হারান তিনিও। শেষ দিকে উইল জ্যাকসের ১৪ বলে ২১ রানের ক্যামিও না থাকলে ইংল্যান্ডের রানটা দেড়শর কাছাকাছি যায় কি না সন্দেহ। ভেল্লালাগে ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের সেরা বোলার।
ফিল্ডিংয়ে নেমে অফ স্পিনার উইল জ্যাকসের হতে দ্বিতীয় ওভারে বল তুলে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। আর তাতেই বাজিমাত! মাত্র ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে লঙ্কান ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন এই জ্যাকস ।
পাওয়ার প্লের ভেতরেই ৩৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন কাঁপছে শ্রীলঙ্কা, তখনই ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। জফরা আর্চার শুরুতেই ফিরিয়ে দেন ফর্মে থাকা পাতুম নিশাঙ্কাকে। আদিল রশিদ আর লিয়াম ডসনরাও উইকেটের উৎসবে যোগ দিলেন পাল্লা দিয়ে। লঙ্কানদের হয়ে লড়াই করলেন শুধু অধিনায়ক শানাকা (৩০)। কিন্তু এক হাতে আর কতটুকু করা যায়? ১৬.৪ ওভারে মাত্র ৯৫ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।






































