শিক্ষকতার বাইরে সাতত্রিশ ধরনের কাজে জড়াচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
শিক্ষকতার বাইরে সাতত্রিশ ধরনের কাজে জড়াচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষককে পাঠদানের বাইরে অন্তত সাতত্রিশ ধরনের অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল কাজে যুক্ত থাকতে হচ্ছে। অতিরিক্ত এসব দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে প্রতিবছর সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক হাজার সাতশো দশ কোটি টাকার বেশি—তবে এর সরাসরি সুফল শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না বলে উঠে এসেছে গবেষণায়। বরং বাড়তি কাজের চাপ শিক্ষকেদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীদের শিখনফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) পরিচালিত এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গড়ে মাসে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা অপেশাদার কাজে ব্যয় করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সরকারি জরিপে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় চলে যায়। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের বাড়ি পরিদর্শনে তুলনামূলক কম সময় ব্যয় হয়।

অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজের চাপ শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষকেদের নব্বই শতাংশ জানিয়েছেন, অপেশাদার কাজ শেষ করে ক্লাসে ঢোকার পর তারা পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সাতাশি শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারছে না এবং পরীক্ষার ফলেও তার নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। জরিপে অংশ নেওয়া যেসব শিক্ষকের ক্ষেত্রে বার্নআউট নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে (মোট দুইশো উনিশ জন), তাদের মধ্যে বিরানব্বই দশমিক ঊনসত্তর শতাংশ ‘লেট-স্টেজ বার্নআউট’-এ ভুগছেন। অর্থাৎ, তারা চরম কর্মক্লান্তির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের তুলনায় বেশি সময় নন-প্রফেশনাল কাজে ব্যয় করেন। প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ সময় গড়ে মাসে প্রায় সাতাশ দশমিক সাতচার ঘণ্টা।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, গবেষণার তথ্য নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতে পারে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং ফরিদ আহমদ।

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!