• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৯ শা’বান ১৪৪৫

অবসর নেয়ার সাহস থাকা লাগবে ক্রিকেটারদের: সুজন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৩, ০৬:২৩ পিএম
অবসর নেয়ার সাহস থাকা লাগবে ক্রিকেটারদের: সুজন
ফাইল ছবি

 বাংলাদেশের ক্রিকেটেও অবসর গ্রহণের সংস্কৃতি নেই। দল থেকে বাদ না পড়লেসাধারণত কেউ থামতে চান না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের বিদায় না হওয়ার পেছনে অনেকেই দেখেন ক্রিকেট বোর্ডের দায়। আবার খেলোয়াড়দের অনিচ্ছাকেও দায়ী করেন অনেকেই। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন অবশ্য ক্রিকেটারদের দায়ই বেশি মনে করেন।

এই প্রজন্মের ক্রিকেটাররা কেন অবসর গ্রহণের সাহস দেখান না, তা বুঝে উঠতে পারেন না সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন। মিরপুরে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সুজন বলেন, ‍‍` আমার তো ছিল (বিদায় বলার সাহস)। আমি তো অবসর নিয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছি, এখন আমার সময় শেষ। আমি যদি না ছাড়ি, নতুন মুখরা কীভাবে আসবে!‍‍`

বগুড়ায় ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান সুজন। তিনিই এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার, যিনি ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছিলেন। তিনি মানছেন, সিদ্ধান্তটা নেওয়া কঠিন কিন্তু সময়মতো বিদায় বলা উচিত, ‍‍`এটা ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কখন “বিদায়” বলার সঠিক সময়। এটা খুব কঠিন। আমি কেঁদেছিলাম ওই সময়ে। আমিও ওই মুহূর্তটা পার করেছি। আমার যেটা ভালোবাসা, সেটা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।‍‍`

তার নিজের সময়ের সঙ্গে এখনকার সময়ের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে সুজন বলেন, ‍‍`আমরা তো আর মাহমুদউল্লাহদের মতো এত পেশাদার ছিলাম না। এখনকার মতো এত টাকা পেতাম না ক্রিকেট খেলে। খুব অল্প টাকায় খেলেছি। তবে তখন ওইটা আমাদের ভালোবাসা ছিল। সেটা আমরা ছাড়তে পেরেছি। আমি জানি না, এই প্রজন্মের ছেলেরা কেন ছাড়তে চায় না, ছাড়ার সাহসটা তাদের আসে না।‍‍`

শুধু দেশের উদাহরণই না, আন্তর্জাতিক তারকাদের উদাহরণ টেনে আনেন সুজন। সম্প্রতি অ্যাশেজের শেষ টেস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। অবসরের সিরিজেও ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনিই ছিলেন।

সুজন বলেন, ‍‍`আপনি কি বলেন স্টুয়ার্ড ব্রড এখনও ইংল্যান্ড টিমে খেলতে পারত না? ও ছাড়ল কেন? আমার কথা হচ্ছে এটাই ইউ হ্যাভ টু নো, হোয়েন ইউ হ্যাভ টু গিভ অ্যা ফুলস্টপ। এটা আপনাকে জানতে হবে। সুতরাং আমার মনে হয় যে উইথ অল রেসপেক্ট ট্যু দ্য প্লেয়ার্স আমি মনে করি এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা কেউ ফোর্স করতে পারব না। এই তোমার অবসর নেওয়ার বয়স হয়েছে এই কথাটা বলার রাইট আমাদের কারও নাই। দে উইল থিংক অ্যাবাউট দেন। আসলে আমার রিটায়ার করা উচিত নাকি খেলা উচিত।‍‍`

তবে অবসরের সিদ্ধান্ত একান্তই ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত বলে মনে করেন সুজন। খেলা চালিয়ে যেতে চাইলে লড়াইটা তার একারই করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সুজন বলেন, ‍‍`‘কেউ যদি মনে করে না আমার আরও খেলা উচিত আমি আরও দুই তিন বছর খেলব- ফাইন এনাফ। আপনি এটা বলতে পারেন না যে কেউ বাদ দিতে পারবে না। আপনি বাদ পড়তে পারেন, আপনার ফর্মসহ অন্য সবকিছু বিবেচনা করলে। আপনার জায়গায় অন্য ছেলেকে সুযোগ দিতে পারে। আমি সব সময় বলি একটা সময় এক্সপেরিয়েন্সের মূল্য অবশ্যই অনেক বেশি। বাট এটাও অনেক ইম্পর্ট্যান্ট যে ফ্রেশ লেগস না আসলে একটা টিম বিল্ডআপের পজিশনে আমরা না গেলেও কিন্তু হবে না।‍‍`

Link copied!