• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১, ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে সুইসদের ইতিহাস


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২১, ০৬:৫১ পিএম
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে সুইসদের ইতিহাস

১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সুইজারল্যান্ড এরপর হারিয়েই গিয়েছিলো। সেই ইতিহাসের রূপান্তর যেন গতকাল ইউরোতে দেখিয়েছে দলটি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং দুইবারের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে টেনে নিয়ে পেনাল্টিতে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। 

শেষের চমকের আভাস প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটেই দিয়েছিলো সুইজারল্যান্ড। সেফারোভিচের হেড ঠেকাতে পারেননি ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিস। সেই হিসেবে একমাত্র অ্যশাটনিও গ্রিজম্যানই কিছুটা ঝলক দেখাতে পেরেছেন প্রথমার্ধে। এনগোলো কান্তে, কিমপেবে এবং কিলিয়ান এমবাপ্পেরা কিছুতেই ভেদ করতে পারেননি সুইসদের রক্ষণ। সেই আক্ষেপ দ্বিতীয়ার্ধে ঘুচিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা করিম বেনজেমা। 

৫৭ এবং ৫৯ মিনিটের সময় জোড়া গোল করেন বেনজেমা। প্রথম গোলে অবদান ছিলো এমবাপ্পের। ডি বক্সে বল টেনে নিয়ে গোল করার পরের মুহূর্তে অপ্রস্তুত অবস্থায় আরেক গোল হজম করে সেউইসরা। গ্রিজম্যানের পাস থেকে এবার হেড করে গোল আদায় করে দলকে এগিয়ে দেন বেনজেমা। পাঁচ বছর পর এমন জোড়া গোলে স্বস্তি মিলেছিলো ফরাসি দলে। সেই স্বস্তি ৭৫তম মিনিটে আরও বাড়ালেন পল পগবা। দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালে জয়ের আভাস পেতে শুরু করে ফ্রান্স। 

তবে সুইজারল্যান্ড যেন দিনের প্রথম নক আউটে স্পেন বনাম ক্রোয়েশিয়ার রেশ ধরে রাখলো। শেষ দশ মিনিটে স্বপ্ন ভাঙলো ফ্রান্সের। ৮১তম মিনিটে অসাধারণ হেডে ব্যবধান কমান সেই প্রথম গোল করে চমকে দেয়া সেফেরোভিচ। আর ৯০তম মিনিটে সমতায় ফেরান গারভানোভিচ। এরপর ইনজুরি সময়ে গোলরক্ষকদের নৈপুণ্যে হার এড়ায় দুই দলই।

অতিরিক্ত মিনিটে খেলা গড়ালেও সেখানে সুবিধা আদায় করতে পারেনি দুই দল। বেনজেমার বদলি নামা অলিভার জিরুডও হতাশ করেন। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে দুই দলই সমানে সমানে প্রথম চার গোল দিতে সমর্থ হয়। কিন্তু ফরাসিদের পঞ্চম পেনাল্টিতে বাধ সাধেন গোলরক্ষক ইয়ান সমার। সমতায় ফের লক্ষ্যের পেনাল্টিতে কিলিয়ান এমবাপ্পের শট বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন তিনি। নিজেকে বিশ্বাস করতে কিছুটা সময় নিলেন, অপেক্ষা করলেন রেফারির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। হ্যাঁ, সেই সমারের হাতেই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে পাড়ি জমালো সুইজারল্যান্ড। 

পুরো সময়ে গোলে শট নেয়া, লক্ষ্যে শট থাকা কিংবা বল দখলে রাখা সবকিছু মিলিয়েই এগিয়ে ছিলো ফ্রান্স। কিন্তু আগের বিশ্বকাপের নায়ক এবং পিএসজি তারকা এমবাপ্পে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে দলটির যাত্রা শেষ ১৬তেই আটকে দিয়েছে। সেমিফাইনালে উঠে রেকর্ড গড়ার পথে বাধা ক্রোয়েশিয়াকে হারানো স্পেন। তবে ইউরো তার রঙ দেখিয়েছে দুই ম্যাচেই, সেটি স্পষ্ট।

Link copied!