বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দেওয়া প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার যদি সত্যিই এতটা খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে সে সময় জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা কেন মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেননি?
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মঞ্চে ওঠেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে ঠিক সেই ভাষায় কথা বলছে, যে ভাষা ব্যবহার করত পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় জামায়াতের দুইজন নেতা তো মন্ত্রিসভায় ছিলেন। বিএনপি যদি এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তাহলে তাঁরা কেন পদত্যাগ করে সরকার ছেড়ে আসেননি?”
জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাঁরা পদত্যাগ করেননি কারণ তাঁরা জানতেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন করছিলেন এবং দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিতেন না।
উল্লেখ্য, ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রিসভায় ছিলেন। নিজামী কৃষি ও পরে শিল্পমন্ত্রী এবং মুজাহিদ সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচক ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশে দুর্নীতির হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তিনি দাবি করেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশ ধীরে ধীরে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। তাঁর ভাষায়, “যারা আজ বিএনপিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করছে, তাদেরই দুই নেতা শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে ছিলেন—এটাই প্রমাণ করে, তারা নিজেরাই কত বড় মিথ্যাচার করছে।”
জনসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে যেমন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ছিল, এবারও তেমনি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।
ভোটের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে গেলে চলবে না; ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে সজাগ থাকতে হবে, যাতে কেউ ভোট লুট করতে না পারে।
সমাবেশে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড এবং বেকারত্ব নিরসনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


































