জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে সামান্য ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। খালি চোখে চাঁদ দেখা ও গাণিতিক হিসাবের পার্থক্যের কারণে কোনো দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে।
আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ও এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, রমজান শুরুর ক্ষেত্রে মতভেদ থাকলেও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও ঈদুল ফিতরের তারিখ অধিকাংশ মুসলিম দেশে প্রায় একই সময়ে হতে পারে—সম্ভাব্যভাবে ২০ মার্চ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম এমারাত আল ইউম-এর বরাতে আল জারওয়ান বলেন, মহাকাশ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী এ বছর রমজান মাস ২৯ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে হিসাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পবিত্র রমজানের প্রথম দিন হতে পারে।
তিনি জানান, ২০২৬ সাল তথা ১৪৪৭ হিজরি বছরের রমজানের নতুন চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সংযুক্ত আরব আমিরাত সময় বিকেল ৪টা ১ মিনিটে জন্ম নেবে। তবে সূর্যাস্তের মাত্র এক মিনিট পরই চাঁদ ডুবে যাওয়ায় সেদিন খালি চোখে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে। ওই সময় চাঁদের বয়স থাকবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট।
পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সূর্যাস্তের পর আমিরাতে চাঁদটি স্পষ্ট দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হলে ১৯ মার্চ হতে পারে শেষ রোজা এবং ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
রমজান মাসে রোজার সময় ধীরে ধীরে বাড়বে। আবুধাবিতে রমজানের শুরুতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। তবে সাহ্রি থেকে ইফতার পর্যন্ত রোজার সময় হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষ দিকে রোজার সময় বেড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে পৌঁছাতে পারে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহ্রি ও ইফতারের সময়েও পার্থক্য থাকবে। পূর্ব উপকূলীয় খোরফাক্কান এলাকায় আবুধাবির তুলনায় প্রায় ৮ মিনিট আগে সাহ্রি ও ইফতার হবে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় আল সিলা ও আল ঘুওয়াইফাত এলাকায় রাজধানীর তুলনায় প্রায় ১২ মিনিট দেরিতে ইফতার করবেন রোজাদাররা। ফলে দেশজুড়ে সাহ্রি ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।





































