ফিলিস্তিনের গাজায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দেবে না ইতালি। দেশটির সরকার জানিয়েছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি শনিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম এএনএসএকে বলেন, ইতালির সংবিধান ও শান্তি পর্ষদের সনদের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে, যা আইনগতভাবে সমাধানযোগ্য নয়। তবে তিনি জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে আলোচনার ক্ষেত্রে ইতালি সব সময় প্রস্তুত থাকবে।
এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ না দেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর তালিকায় ইতালির নাম যুক্ত হলো। এর আগে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও স্পেন একই সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘ গত বছর যুদ্ধোত্তর গাজার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা কাঠামো হিসেবে এ পর্ষদের অনুমোদন দিয়েছিল।
গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে শান্তি পর্ষদটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ট্রাম্পসহ এখন পর্যন্ত ১৯টি দেশের নেতা এতে সই করেছেন।
যদিও শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যান ট্রাম্পের সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তবু এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো এমন সময়ে, যখন নতুন এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের ভূমিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কি না—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী অন্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ‘সমতার শর্ত’ না থাকলে ইতালি কোনো আন্তর্জাতিক কাঠামোয় যোগ দিতে পারে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তি পর্ষদের সনদে ট্রাম্পকে ভেটোক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যাখ্যার ক্ষমতা তাঁর হাতেই রাখা হয়েছে, যা সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে গাজায় পুলিশ বাহিনী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজস্ব ভূমিকা রাখতে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান তাজানি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক ছিল ‘খুবই ইতিবাচক’।
এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর এক দিন আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকেরও কথা রয়েছে।
শান্তি পর্ষদের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসরসহ মোট ২৬টি দেশ ইতোমধ্যে এতে যোগ দিয়েছে।
আল–জাজিরা






































