খামেনি হত্যা

সিআইএ গোপন স্থান শনাক্ত করে, ইসরায়েল হামলা চালায়


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
সিআইএ গোপন স্থান শনাক্ত করে, ইসরায়েল হামলা চালায়
ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি 

সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইসরায়েল নির্ভুল হামলা পরিচালনা করে বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রমতে, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি ও অবস্থানের ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে তারা নিশ্চিত হয়, শনিবার সকালে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি সরকারি কম্পাউন্ডে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে এবং সেই বৈঠকে খামেনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্য পাওয়ামাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সিআইএ ইসরায়েলকে খামেনির অবস্থান সম্পর্কে 'হাই ফিডেলিটি' বা অত্যন্ত নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করেছিল। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।

ইসরায়েল মার্কিন ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য একত্রিত করে শনিবার 'রোরিং লায়ন' অভিযান পরিচালনা করে, যার পরিকল্পনা কয়েক মাস আগে থেকেই চলছিল। মূল পরিকল্পনায় রাতের বেলায় হামলার কথা থাকলেও সকালে বৈঠকের খবর পেয়ে দিনের আলোতেই হামলা চালানো হয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল সেই কম্পাউন্ড, যেখানে একসঙ্গে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্সি অফিস, সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কার্যালয়।

ইসরায়েল নিশ্চিত ছিল, এই বৈঠকে ইরানের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক পরিষদপ্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সৈয়দ মজিদ মুসাভি এবং গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও অনেকে।

ইসরায়েলের স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৬টায় যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি ছেড়ে উড়াল দেয়। তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক বিমান ব্যবহার করা হলেও সেগুলো ছিল দূরপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্রে সজ্জিত। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। হামলার সময় শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি ভবনে এবং খামেনি পাশের আরেকটি ভবনে অবস্থান করছিলেন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইসরায়েলি এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার লেখা একটি বার্তা দেখতে পেয়েছে। সেখানে বলা হয়, "শনিবার সকালের হামলাটি তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে চালানো হয়েছে। এর একটিতে ইরানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা একত্রিত হয়েছিলেন।" বার্তায় ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ইরানের যুদ্ধপ্রস্তুতি সত্ত্বেও ইসরায়েল এই অভিযানে কৌশলগত চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও সিআইএয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো পক্ষ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ দুজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে — রিয়ার অ্যাডমিরাল শামখানি এবং মেজর জেনারেল পাকপুর, যাঁদের নাম ইসরায়েলের গোয়েন্দা তালিকায়ও ছিল।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, "যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় আছেন — চাইলে তাকে হত্যা করা সম্ভব।" একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, শনিবারের অভিযানেও সেই একই তথ্যপ্রাপ্তির নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। সরকারি কম্পাউন্ডে হামলার পর ইরানের গোয়েন্দা দপ্তরগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা পালাতে সক্ষম হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ এই হামলায় নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!