সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা হলো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শরিয়ত নির্ধারিত একটি বিশেষ দান, যা অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর রোজা ভঙ্গের উপলক্ষে এই দান আদায় করা ওয়াজিব।
কাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব
ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়ালের ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও নিত্যব্যবহার্য জিনিসের বাইরে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ বা তার বেশি সম্পদের মালিক হলে যেকোনো মুসলিম নর-নারীর ওপর ফিতরা ওয়াজিব হয়। উল্লেখযোগ্য যে, বুদ্ধিমান-বালেগ হওয়া বা মুকিম হওয়া এর জন্য শর্ত নয় — অবুঝ শিশু, মুসাফির এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের পক্ষ থেকে অভিভাবক ফিতরা আদায় করবেন।
এ বছরের নেসাব: ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার দারুল ইফতা জানিয়েছে, ৫২.৫ ভরি রুপার বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সালে জাকাত ও ফিতরার নেসাব নির্ধারিত হয়েছে ২,৩০,০০০ টাকা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মুফতি মনসূরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নেসাব ঘোষণা করা হয়।
ফিতরার পরিমাণ
জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটি এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা ফিতরা নির্ধারণ করেছে। রাহমানিয়া আরাবিয়ার হিসাব অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্যভেদে ফিতরার পরিমাণ নিচে তুলে ধরা হলো —
| খাদ্যদ্রব্য | পরিমাণ | একটি ফিতরা |
|---|---|---|
| কিশমিশ | ৩.৩ কেজি | ২,৮০০ টাকা |
| পনির | ৩.৩ কেজি | ২,৬৫০ টাকা |
| খেজুর | ৩.৩ কেজি | ২,০০০ টাকা |
| যব | ৩.৩ কেজি | ৪৫০ টাকা |
| গম/আটা | ১.৬৫ কেজি | ১০০ টাকা |
স্বর্ণের জাকাত
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মূল্য তালিকা অনুযায়ী, স্বর্ণের জাকাতযোগ্য মূল্যের ওপর ২.৫% হারে জাকাত দিতে হবে। তবে রুপার স্থানীয় বাজারদরে তারতম্য হতে পারে, তাই নিজ এলাকার বাজারমূল্য যাচাই করে জাকাত পরিশোধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






































