ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর এই মুহূর্তে ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে দেশটির সংবিধানেই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানায়, ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে তিন সদস্যের একটি পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। এই পরিষদে থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা।
BBC লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুর পর সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে উল্লিখিত তিনজনই সাময়িকভাবে দেশ পরিচালনার তত্ত্বাবধান করবেন। একই সঙ্গে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে Assembly of Experts। সংবিধান অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে। তবে চলমান হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সদস্যদের দ্রুত একত্রিত হওয়া কঠিন হতে পারে।
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–র মৃত্যুর দিনই ১৯৮৯ সালে খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি–কে কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার সময় তেহরানে নিজ কার্যালয়ে খামেনি নিহত হন। ইরান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পেছনে তিনটি উদ্দেশ্যের কথা বলেছেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির হুমকি নির্মূল, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ সক্ষমতা ধ্বংস এবং শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে নেতৃত্ব হস্তান্তরের জন্য সুস্পষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াই এখন কার্যকর হচ্ছে।





































