ট্রাম্প প্রশাসনের মানচিত্র ঘিরে বিতর্ক

পুরো কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
পুরো কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো

নয়া দিল্লির সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য সমঝোতার ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রকাশিত একটি মানচিত্র ঘিরে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন বাণিজ্য দূতের কার্যালয়ের প্রকাশিত ওই মানচিত্রে পুরো কাশ্মীর অঞ্চলকেই ভারতের অন্তর্গত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্সে দেওয়া পোস্টে ব্যবহৃত মানচিত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের পাশাপাশি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ও ভারতের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আনন্দবাজার জানিয়েছে, একই মানচিত্রে চীনের দখলে থাকা কাশ্মীরের অংশ আকসাই চীনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে ভারতের অন্যান্য গণমাধ্যমে মূলত পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই মানচিত্র প্রকাশের মাধ্যমে কাশ্মীর প্রশ্নে কার্যত ভারতের অবস্থানকেই মেনে নিল ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত কোনো মানচিত্রে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়নি।

উল্লেখ্য, একাধিক মার্কিন পণ্যের ওপর ভারতে শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দিতে গিয়ে ওই মানচিত্রসহ পোস্টটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টে বলা হয়, কাঠবাদামসহ নানা মার্কিন পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজার আরও উন্মুক্ত হচ্ছে।

এই মানচিত্র ইস্যুতে তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে এমন মানচিত্র ইসলামাবাদের জন্য বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী। বেলুচিস্তানে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ, বিরল খনিজ সম্পদে আগ্রহ এবং সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় ও পাকিস্তানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার ভারতীয় সময় ভোরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতার ঘোষণা দেয়। এ সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীয়ূষ গয়াল পরে জানান, সমঝোতা কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর গড় শুল্ক ১৮ শতাংশে নামবে। এতে বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক, গৃহসজ্জা ও রাসায়নিক শিল্পে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে অনেক ভারতীয় পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না।

অন্যদিকে মার্কিন কৃষিপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতও আমদানি শুল্ক কমাচ্ছে বা পুরোপুরি তুলে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

Link copied!