ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ৬ শতাধিক কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ; তাদের ভাষায় এ কেন্দ্রগুলো ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরী মিলে ১ হাজার ৯৬৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি সিএমপির ১৬ থানার অধীনে। আর ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার অধীনে। কেন্দ্রগুলোকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা করেছে পুলিশ।
সে অনুযায়ী সিএমপির অধীনে থাকা ৬০৭টির মধ্যে ৩১০টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জেলা পুলিশের অধীনে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ চিহ্নিত করা হয়েছে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে।
ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, প্রার্থীর বাসস্থানের দূরত্ব, গোলযোগের শঙ্কাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মহানগর এলাকায়, মহানগরের বাইরের এলাকা ও বিশেষ এলাকায় (পার্বত্য ও দুর্গম) ‘সাধারণ’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা কেন্দ্রগুলোকে তিনভাগে ভাগ করেছি। নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
গত ৭ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, মহানগরীর ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোতে চারজন করে অস্ত্রসহ পুলিশ, দুইজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও মহিলা আনসার মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ, দুইজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও মহিলা আনসার মোতায়েন থাকবে।
চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯-১১ নম্বর আসনগুলোর সম্পূর্ণ অবস্থান মহানগরীতে। ৪ ও ৫ নম্বর আসনের আংশিক এবং ৮ ও ১৩ নম্বর আসনের বড় একটি অংশ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অধীনে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, জেলার অধীনে থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৪৩টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ৬৮৮টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ৩২৭টি কেন্দ্রকে তারা ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, তাদের অধীনে থাকার ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’, ১৫০টি ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ ও ১৪৭টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও সিটি করপোরেশনের ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৪ আসন। এ আসনের ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থান আকবর শাহ থানা এলাকায়।
হাটহাজারী উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-৫ আসন। সিটি করপোরেশনের দুইটি ওয়ার্ড সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানার অধীনে।
চট্টগ্রাম সিটির ৩-৭ নম্বর ওয়ার্ড ও বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন। শহরের অংশগুলো নগর পুলিশের বায়েজিদ, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানার অধীনে।
আর আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসনটির পুরো কর্ণফুলী উপজেলা সিএমপির অধীনে।
পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালী থানার অধীনে ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ১২টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও দুটি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চকবাজার থানার ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটি করে মোট আটটি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সদরঘাট থানার ২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রকে অধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং পাঁচটি ‘সাধারণ’ ও তিনটি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চান্দগাঁও থানার ৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ’, ২০টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৯টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’, পাঁচলাইশের ৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি অধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ’, তিনটি ‘সাধারণ’ ও ১০টি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’, খুলশী থানার ৪৭টির মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রই ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার ৫৬টির মধ্যে ১৮টি করে কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ২০টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডবলমুরিং থানার ৪৮টির মধ্যে ১৮টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ১৯টি ‘সাধারণ’ ও ১১টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হালিশহর থানায় মোট ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ছয়টি ‘সাধারণ’ এবং চারটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’, পাহাড়তলীর ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, আটটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং আকবরশাহ থানার ২৩টি কেন্দ্রের প্রত্যেকটিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।
এদিকে বন্দর থানা এলাকার ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে কোনো কেন্দ্রই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ নয়। এ থানা এলাকার ২৯ টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৩টিকে ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ। ইপিজেড থানার ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি সাধারণ ও ১৩টি কেন্দ্রকে অধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’, পতেঙ্গার ২৫টির মধ্যে সাতটি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, একটি ‘সাধারণ’ এবং ১৭টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
কর্ণফুলী উপজেলার ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ২৬টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১ এর মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার অধীনে কোনো কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। মিরসরাই থানার ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং চারটি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আর জোরারগঞ্জ থানার ২৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ২১টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ।
ফটিকছড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনটি দুই থানার অধীনে। এ আসনটিতে ফটিকছড়ির থানার ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৩৯টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’, ভুজপুর থানার ৫৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’, ১৪টি সাধারণ ও ৩টি কেন্দ্রকে অধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৩ দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের এ আসনটিতে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক ‘গুরুত্বপূর্ণ’, ৪৯টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১০টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪ এর সীতাকুণ্ড থানার ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ৪২টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও দুটি ‘সাধারণ’ কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী উপজেলার ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ৭৪টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং একটি ‘সাধারণ’ কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম-৬ রাউজান উপজেলার ৯৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ২০টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৫৪টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসনটিতে রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া নামে দুটি থানা রয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া থানার ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি ‘সাধারণ’ ২৯টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হলেও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আর ১৫টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং অপর ছয়টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের বোয়ালখালী উপজেলার ৮৫টি কেন্দ্রের ২৫টিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৫৭টি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’।
চট্টগ্রাম-১২ আসনটি পটিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলার ১১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’। আর ৬৩ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ২৬টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসনটির কর্ণফুলী উপজেলা মহানগর পুলিশের অধীনে। আনোয়ারা থানার ৭১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ৩২টি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ২৬টি কেন্দ্র ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি গঠিত হয়েছে চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরাণগড় ও খাগরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে।
এ আসনের চন্দনাইশ উপজেলার ৬৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৪টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আর সাতকানিয়া থানার ৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্র ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ১৭টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১০টি কেন্দ্র ‘সাধারণ’।
লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া থানার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসন। এ আসনের লোহাগাড়া থানার ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর ২৬টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৪টি ধরা হয়েছে ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে।
সাতকানিয়া অংশের ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ৫৩টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ১৫টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী উপজেলার ১১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্র ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ ও ২১টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৫০টি আসন ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।



































