পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
শুক্রবার ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত ‘ইমামবাড়া কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা’ মসজিদে হামলাটি ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৬০ জন। আহতদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস)-এর মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, টেলিগ্রাম অ্যাপে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে সুন্নি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী প্রথমে গুলিবর্ষণ করে এবং পরে বিস্ফোরণ ঘটায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং সে আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হামলার পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের ধরতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খুব শিগগিরই দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ হামলার পেছনে প্রতিবেশী ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
শনিবার ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় আলেম ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
২০০৮ সালে ম্যারিয়ট হোটেলে বোমা হামলার পর এটিই ইসলামাবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকার মসজিদ ও ইমামবাড়াগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রায় ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার পাকিস্তানে শিয়া মুসলিমরা সংখ্যালঘু। এর আগেও তারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছে, যার দায় বিভিন্ন সময় আইএস ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান স্বীকার করেছে।




































