• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৯ মুহররম ১৪৪৫

তুরস্কে রুশ কোটিপতিদের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার হিড়িক


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২২, ০৪:৫৩ পিএম
তুরস্কে রুশ কোটিপতিদের  অ্যাপার্টমেন্ট কেনার হিড়িক
ছবি : রয়টার্স

রাশিয়ার বিত্তশালীরা তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবাসন খাতে অর্থ ঢালছেন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা পেতে এই দুই দেশে অর্থ ব্যয় করছেন রুশ বিত্তশালীরা।

আবাসন কোম্পানিগুলোর বরাতে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতের বড় ক্রেতা ছিল ইরান ও ইরাকের নাগরিকরা। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর এ পরিসংখ্যান পাল্টে গেছে। দেশটিতে এখন আবাসন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাশিয়া।

তুরস্কের পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর আগে তুরস্কে ৫০৯টি বাড়ি কেনে রাশিয়ানরা। আগের বছরের চেয়ে এ সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি। এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন আবাসন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

রয়টার্স জানায়, তারা এক ডজন আবাসন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছে। একই সঙ্গে বাড়ি কেনা কিছু রুশ নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে তারা। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে চায়নি রাশিয়ানরা। রাশিয়ানদের আবাসন কেনার হিড়িকের বিষয়ে কোম্পানিগুলোর অনেকেই তথ্য দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ইস্তাম্বুলে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ইব্রাহিম বাবাকান। তার কোম্পানি তুরস্কে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট তৈরি ও বিক্রি করে।

এই আবাসন কোম্পানির মালিক বলেন, “আগে রুশ নাগরিকদের ভূমধ্যসাগরের আন্তালিয়া অঞ্চলে রিসোর্টে বসবাসে আগ্রহ ছিল অনেক। বর্তমানে সেটা কমেছে। তারা নিজেদের অর্থ বিনিয়োগে ইস্তাম্বুলে অ্যাপার্টমেন্ট কিনছেন।”

আবাসন ব্যবসায়ী বাবাকান আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা ছাড়াই রুশ নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করছেন। তবে কিছু নাগরিক ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে কনভার্ট করা নগদ অর্থ ব্যবহার করছেন।”

ইস্তাম্বুলের গোল্ডেন সাইন আবাসন কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা গুল গুল বলেন, “আমরা রুশ নাগরিকদের কাছে প্রতিদিন সাত থেকে আটটি ইউনিট বিক্রি করছি। তারা নগদ অর্থে কিনছেন। কেউ কেউ তুরস্কে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলছে অথবা স্বর্ণ নিয়ে আসছে।”

দুবাইয়ের মডার্ন লিভিং আবাসন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থিয়াগো কালডাস বলেন, “রুশ নাগরিকদের সেবা দিতে তিনজন রুশভাষী প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছি আমরা। আমাদের ব্যবসা আগের চেয়ে ১০ গুণ বেড়েছে।”

আমিরাতভিত্তিক রয়্যাল হোম রিয়েল এস্টেটের ব্রোকার এলেনা টিমচেঙ্কো বলেন, “দুবাইতে অ্যাকাউন্ট থাকা রুশ নাগরিকদের জন্য আবাসন কেনা সহজ। যাদের অ্যাকাউন্ট নেই তারা বন্ধুদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কেউ আবার সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করছেন।”

এদিকে বিদেশি আবাসন ক্রেতাদের জন্য তুরস্ক ও আমিরাত নাগরিকত্বের সুযোগ দিচ্ছে বলে জানায় রয়টার্স। কোনও বিদেশি ক্রেতা আড়াই লাখ ডলারের প্রপার্টি কিনলে ও তা তিন বছর নিজের মালিকানায় রাখলে তুর্কি পাসপোর্ট পাবেন।

আর আরব আমিরাতে কিছুটা কম অর্থ ব্যয় করে নাগরিত্ব পাওয়া যাবে। এ জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ডলার মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে হবে। ফলে এই দুই দেশে আবাসন খাতে বিক্রির হিড়িক আরও বেড়েছে।

Link copied!