• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

উত্তর কোরিয়ায় ২৪ লাখ মানুষের ‘জ্বর’


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২১, ২০২২, ০৫:২৬ পিএম
উত্তর কোরিয়ায় ২৪ লাখ মানুষের ‘জ্বর’

করোনার শনাক্ত হওয়ার পর থেকে জ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে উত্তর কোরিয়ায়। গত ১৫ দিনে ২৪ লাখের বেশি মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এরমধ্যে কতজনের দেহে করোনা পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ১৫ দিন আগে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত করে উত্তর কোরিয়া। ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি জনসংখ্যার দেশে নেই কোনো করোনার টিকা ব্যবস্থা। বৈশ্বিক সহায়তার টিকা গ্রহণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত চিকিৎসা অবকাঠামো ও সম্ভাব্য খাদ্য সংকট নাগরিকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশের সীমানা বন্ধ করে রাখা হয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার জরুরি মহামারী প্রতিরোধ সদর দপ্তরের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএন বলছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০ জনের দেহে জ্বর চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১৫ দিনে মোট জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৪০ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬। তবে এরমধ্যে কতজনের করোনা পরীক্ষা ও শনাক্ত হয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

বিবিসি বলছে, উত্তর কোরিয়ায় কার্যকর অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই। টিকা ব্যবস্থাও নেই। এসব ছাড়াই কোভিডের বিস্তারের সঙ্গে লড়াই করছে জনগণ। মহামারি থেকে রক্ষা পেতে ২০২০ সালের শুরু দিকে দেশের সীমানা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত বাইরের চিকিৎসা সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

শাসক-দলীয় সংবাদপত্র রোডং সিমনুন বলছে, দেশে যারা গুরুতরভাবে অসুস্থ নয় তাদের জন্য কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদা, মধু চা ও উইলো-পাতার পানীয় পান করতে বলা হয়েছে। গরম পানি কিছু কোভিড উপসর্গকে প্রশমিত করতে পারে। যেমন, গলা ব্যথা বা কাশি। আদা ও উইলো পাতা প্রদাহ উপশম করে ও ব্যথা কমায়। জনগণকে এসব পান করতে বলা হলেও ভাইরাসের কার্যকরী চিকিৎসা এটা না।

রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সম্প্রতি এমন এক দম্পতির সাক্ষাত্কার নিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সকালে ও রাতে লবণ পানি দিয়ে গরগরা করার পরামর্শ পেয়েছেন। ‘এন্টিসেপটিক সলিউশন’ তৈরি করতে পিয়ংইয়ংয়ে ‘হাজার টন লবণ’ পাঠানো হয়েছে। জনগণকে লবণাক্ত পানির ধোঁয়া গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ায় করোনা পরীক্ষার হার বেশ কম, যা দিয়ে দেশের মোট শনাক্ত ও মৃত্যু নিশ্চিত করা যায় না। তারা টিকা কার্যক্রম চালু করেনি। এতে দেশের হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Link copied!