স্টিফেন হকিংয়ের সতর্কবাণী মনে করিয়ে দেয়, এআই মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ অর্জন হতে পারে, কিন্তু সুপ্ত বিপদ এড়ালে এটাই শেষ অর্জনও হতে পারে। শিশুদের জন্য এআই-চালিত খেলনাগুলো বিনোদনমূলক বলে প্রচারিত হলেও, এরা শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে ‘ব্রেন স্টান্ট’ সৃষ্টি করে ক্ষতি করে।
এআই খেলনাগুলো শিশুর সঙ্গে কথা বলে, গল্প শোনায় এবং বন্ধুর মতো আচরণ করে, কিন্তু অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রিত এই প্রতিক্রিয়া শিশুর কোমল মনের জন্য তৈরি নয়। এগুলো কৃত্রিম আবেগীয় সম্পর্ক গড়ে, যা মানবিক সাহচর্যের বিকল্প নয়। ২০১৫ সালে ‘কুম্মা’ টেডি বেয়ার শিশুদের বিপজ্জনক কথোপকথনে জড়ায় এবং ২০২৫ সালে ‘টাইম’ ম্যাগাজিন ‘লাবুবু’ ও ‘লাফুফু’র মতো সস্তা খেলনার ঝুঁকি তুলে ধরে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডানা সাসকিন্ড ‘ক্রিটিক্যাল পিরিয়ড’-এ এআই-এর অসংযত ব্যবহারকে মস্তিষ্কের বিকাশে বাধাদানকারী বলে চিহ্নিত করেন।
এআই খেলনা তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়ে শিশুকে আসক্ত করে, কিন্তু বাস্তব সম্পর্কের জটিলতা, ধৈর্য, আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখায় না। ৬ মাসের শিশুরাও এগুলোকে সঙ্গী মনে করে এবং স্ক্রিনের বদলে এআই-এর মায়ায় পড়ে সামাজিক দক্ষতা হারায়। ইউএস পিআইআরজি রিপোর্ট দেখায়, এগুলো সংবেদনশীল বিষয়ে বিপজ্জনক পরামর্শ দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ক্ষতি করে। ইউনিসেফ শিশু-কেন্দ্রিক নীতি ও ১০টি শর্ত দিয়ে সতর্ক করে।
অভিভাবকরা খেলনা কেনার আগে রিভিউ ও গবেষণা দেখুন, এআই/স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন এবং খেলাধুলা, বই, পরিবারের সঙ্গে সময় দিন। আসক্তি দেখলে হঠাৎ কেড়ে না নিয়ে বোর্ড গেম বা বাইরের খেলায় প্রলুব্ধ করুন, একাকিত্বের কারণ বুঝে সমাধান করুন। এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করুন, মানবিকতার প্রদীপ নিভিয়ে ফেলবেন না—এটাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথেয়।








































