• ঢাকা
  • রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১,

প্রাণঘাতী রোগ লিভার সিরোসিস কেন হয়?


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৩, ০৪:৪৩ পিএম
প্রাণঘাতী রোগ লিভার সিরোসিস কেন হয়?

লিভারের একটি মারাত্মক রোগ লিভার সিরোসিস। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াস রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, লিভার সিরোসিস হচ্ছে এমন একটা লিভারের কন্ডিশন, যেখানে লিভার কাজ করে না। লিভারের স্বাভাবিক গঠন এবং কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এ রোগে প্রতি বছরই অনেকের মৃত্যু হয়।’চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রাণঘাতী রোগটি কী এবং এটি কেন হয়-

লিভার সিরোসিস কী
লিভার সিরোসিস হলো লিভারে যেকোনো সংক্রমণ বা যেকোনো একটা রোগ হলে সেটি যদি ভালোভাবে চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে সেটি লিভার সিরোসিসে রূপ নেয়। এটি লিভারের এমন একটা কন্ডিশন যেখানে লিভার কাজ করে না। লিভারের স্বাভাবিক গঠন এবং কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

বৈশিষ্ট্যগুলো কী
লিভারের স্বাভাবিক কিছু টিস্যু থাকে। এ টিস্যুগুলো সিরোসিসে নষ্ট হয়ে শক্ত হয়ে যায়। এটাকে বলা হয় ফাইব্রোসিস এবং এ শক্ত টিস্যুগুলো কিছুদিন গেলে আস্তে আস্তে কতগুলো মডিউলের মতো ডেভলাপ করে। গোলাকৃতির মডিউল। ফাইব্রোসিস বা মডিউল, এগুলো হচ্ছে লিভার সিরোসিসের ক্যারাকটারিস্টিকস বা বৈশিষ্ট্য। এক কথায় লিভার সিরোসিস হচ্ছে লিভারের একটা অ্যাডভান্সড ডিজিজ যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না। এটা আল্টিমেটলি মানুষের মৃত্যুর একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লিভার শরীরে কী কী কাজ করে

  • লিভার আমাদের শরীরে ১০০টির ওপরে কাজ করে। এরমধ্যে প্রধান কাজ হচ্ছে পিত্তরস তৈরি করা, যেটা শরীরে হজমে কাজ করে। 
  • লিভার বিলিরুবিন, কোলেস্টেরল, হরমোন তৈরি করে এবং আমাদের শরীরে বিভিন্ন রকম ইম্পরট্যান্ট কাজ করে থাকে।
  • প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট এগুলোর মেটাবোলিজম লিভারে সম্পন্ন হয়।
  • লিভার প্লাজমা প্রোটিন তৈরি করে। কোয়াগুলেশন ফ্যাক্টরগুলো শরীরে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। আর অ্যালবুমিন শরীরে পানি ধরে রাখে। ফলে লিভার সিরোসিসে অ্যালবুমিন কমে যায়। তখন শরীরে পানি চলে আসে।
  • ভিটামিন, মিনারিল, গ্লাইকোজেন এগুলো লিভারে জমা হয়। আমাদের শরীরে লিভার এনার্জি অ্যাকটিভেশন বা এনার্জি সাপ্লাই করে।
  • মানবদেহে লিভার একটা ফিল্টার হিসেবে কাজ করে এবং ডিটক্সিফিকেশন করে। তার মানে আমরা যেকোনো ধরনের খাদ্য, পানীয়, ওষুধ গ্রহণ করি, এগুলো পাকস্থলী বা ইনটেস্টাইন থেকে লিভারে যায়। ওখানে পরিশোধন হয়। ফিল্টার হওয়ার পর যেগুলো বর্জ্যজাতীয় জিনিস, এগুলো ডিটক্সিফিকেশন হয়। এরপরে ব্লাডে যায়। কাজেই লিভার আমাদের ইম্পরট্যান্ট ফিল্টার হিসেবে কাজ করার কারণে আমাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ।

লিভার সিরোসিসের কারণ

  • অনেকগুলো কারণে মানুষের শরীরে লিভার সিরোসিস হয়, তবে আমাদের দেশের জন্য যে কারণগুলো কমন, এগুলো হচ্ছে ক্রনিক হেপাটাইটিস-বি, ক্রনিক হেপাটাইটিস-সি। বি ভাইরাস এবং সি ভাইরাস যখন আমাদের শরীরে অনেক দিন ধরে থাকে, তখন এগুলো লিভার সিরোসিসে টার্ন করে।
  • লিভার সিরোসিসের অন্যতম কারণ হচ্ছে ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার আমাদের দেশে দুইভাবে হয়। অ্যালকোহলিক, নন-অ্যালকোহলিক।
  • অ্যালকোহলিক লিভার সিরোসিস হলো যারা অ্যালকোহল অনেক বেশি পরিমাণে খান এবং অনেক দিন ধরে খান। অ্যালকোহল থেকে লিভার সিরোসিসে রূপ নেয়।
  • নন-অ্যালকোহলিক লিভার সিরোসিস মানে যাদের ওবেসিটি আছে, ওজন অনেক বেশি, হাইপারটেনশন আছে, ডায়াবেটিস আছে, থাইরয়েডের সমস্যা আছে, এ সমস্ত কারণে বা অন্যান্য অনেক হরমোনাল কারণে ফ্যাটি লিভার হয়। ফ্যাটি লিভার চিকিৎসা করা না হলে লিভার সিরোসিসে টার্ন করে।
  • এছাড়া কিছু ওষুধের কারণে লিভার সিরোসিস হয়। যেমন: একটা ওষুধ আছে যেটা স্কিন ডিজিজের জন্য খাওয়া হয়, অনেকে আথ্রাইটিসের জন্য খেয়ে থাকেন। এ ধরনের ওষুধগুলো দীর্ঘসময় খেলে লিভার সিরোসিস হতে পারে। এ ছাড়া আরও অন্য ওষুধ আছে। প্যারাসিটামল, এমিওডেরন। এজন্য এ ধরনের ওষুধ যারা খান, তাদেরকে রেগুলার ফলোআপে থাকতে হবে। লিভার ঠিকঠাক আছে নাকি লিভার সিরোসিসে টার্ন হচ্ছে, রেগুলার চেকআপে থাকতে হবে।
  • হার্টের রোগীদের যদি লিভারের মধ্যে ক্রনিক একটা কনজেশন থাকে, এটাও লিভার সিরোসিসে টার্ন করতে পারে। এভাবে আরও অনেক কারণ আছে লিভার সিরোসিসের।
Link copied!