পাঠ্যবই পুনর্বিচার বিশ্লেষণে দুইটি কমিটি গঠন: শিক্ষামন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ০৩:০৯ পিএম
পাঠ্যবই পুনর্বিচার বিশ্লেষণে দুইটি কমিটি গঠন: শিক্ষামন্ত্রী
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি- সংবাদ প্রকাশ

সব পাঠ্যবই পুনর্বিচার বিশ্লেষণ করে দেখতে দুইটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বইয়ে ইচ্ছাকৃত কোনো ভুল ত্রুটি, গাফিলতি কোথাও পরিলক্ষিত হলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিটির সদস্যদের নাম আগামী রোববার জানানো হবে।”

পাঠ্যবই নিয়ে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা না করারও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “পাঠ্যবইয়ের যে ভুলগুলো চিহ্নিত হচ্ছে সেটা খুব ইতিবাচক ভাবেই দেখছি। এ ভুলগুলো শনাক্ত করতে আমরা দুটো কমিটি করছি। একটি কমিটি আমাদের বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। একইসঙ্গে পাঠ্যবই সংশোধনীতে একটি অনলাইন ফর্ম সরবরাহ করবে মন্ত্রণালয়। এ ফর্মে বিষয়ভিত্তিক বইগুলোর ভুল বা অসঙ্গতি সম্পর্কে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে অবহিত করার সুযোগ থাকবে। ভুলগুলো আমলে নিয়ে আমাদের কমিটির বিশেষজ্ঞরা তা সমাধান করবেন। প্রয়োজনীয় সংশোধনী দেবেন। সেসব সংশোধনী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”

দীপু মনি বলেন, “অপরদিকে অন্য কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিসহ দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, এনসিটিবির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংযুক্ত থাকবেন। তারা পাঠ্যবইয়ের এসব অসঙ্গতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করবেন।” 

সারা বিশ্বে কাগজ ও বিদ্যুতের সংকট থাকার পরেও আমরা ১ জানুয়ারিতে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করে যেন কোনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে- যোগ করেন তিনি।

দীপু মনি বলেন, “আজকাল সামাজিক মাধ্যম অনেক সরব, সেই মাধ্যম থেকে শুরু করে, গণমাধ্যম, রাজনীতির মাঠ সব জায়গা থেকেই আমরা বইয়ের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা শুনছি। আমরা আগেও বলেছি আমাদের এই বইগুলো নতুন শিক্ষাক্রমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রণয়ন করেছি।”

‘আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে মতামত পাচ্ছি, সব জায়গা থেকে পাচ্ছি’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার দায়িত্বে যারা আছি, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা আছি, মানুষের মধ্যে বইগুলো নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সেটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।”

হয়তো সর্ষের মধ্যেও কোথাও ভূত আছে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, “এনসিটিবির ভেতরেও যদি কেউ থেকে থাকে যে কেউ ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুলগুলো করেছে। বই ছাপানোর বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ যে এখানে ভুল করার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কোথাও কারও গাফেলতি বা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক কোনো দিকে নেওয়ার অভিপ্রায় থেকে থাকলে তা খুঁজে বের করতে আমরা কাজ করছি।”  

Link copied!