• ঢাকা
  • রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১, ৪ শাওয়াল ১৪৪৫

হুমকির মুখে কিশোরগঞ্জের লোকভাষা ‘ছহুম’


দীপংকর গৌতম
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪, ০১:০৫ পিএম
হুমকির মুখে কিশোরগঞ্জের লোকভাষা ‘ছহুম’

গ্রাম-হাওর-বিল কিশোরগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক অবস্থানকে বিশেষত্ব দান করেছে। ‘মৈমনসিংহ গীতিকার’ এক বিশাল ভাণ্ডার এই জেলা।  প্রমিত ভাষা রীতির বাইরে এ অঞ্চলেরও একটি নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার এমন অনেক উপজেলা আছে, যেগুলোতে আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে অনেক বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের নিজস্ব ভাষা রীতি এ অঞ্চলের মানুষকে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছে।

দেশের প্রত্যেক অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার মতো কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে। একইসঙ্গে জেলার দূরবর্তী হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের স্থানীয় অধিবাসীদের একটি নিজস্ব ভাষা আছে, যা একমাত্র স্থানীয় অধিবাসী ছাড়া অন্যের পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন। এ ভাষার স্থানীয় নাম ‘ছহুম ভাষা’। এই ভাষাটি শ্রমজীবী মানুষের ভাষা হিসাবে খ্যাত। কিন্তু সহসাই প্রশ্ন থাকতে পারে শ্রমজীবী মানুষের ভাষা অন্যদের ভাষা থেকে আলাদা হলো কেন? এ প্রসঙ্গে বলতে গেলে উর্দু ভাষার জন্মকাহিনী জানলে ভাষা ভিন্ন হওয়ার কাহিনীটা স্পষ্ট হবে। 

এক কথায় বলতে গেলে উর্দি থেকে উর্দু ভাষার উৎপত্তি। তবে এর পেছনের কারণটিও বলা বাঞ্ছনীয় মনে করছি। ভারতবর্ষের আর্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় অনার্য ভাষাগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। অনার্য ভাষাগুলোর কিছু শব্দ শুধু টিকে থাকে। কালের পরিক্রমায় আর্য ভাষায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ পাণিনি ও ভাষ্যকার পতঞ্জলি এর সংস্কার করেন। তাই এর নাম হয় সংস্কৃত। সংস্কৃত প্রাচীন পৃথিবীর সেরা ভাষাগুলোর একটি। সংস্কৃত ভাষার যে রূপটি ছিল সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, তা এক সময় শিথিল ও সরল হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ ধারণ করে। কালক্রমে এগুলোকেই বলা হয় প্রাকৃত ভাষা। এ ভাষাগুলোর প্রকৃতি বা মূল সংস্কৃত, তাই এদের বলা হয় প্রাকৃত ভাষা। অথবা প্রকৃতি অর্থ সাধারণ জনগণ, অর্থাৎ প্রাকৃত অর্থ প্রাকৃতজনের ভাষা। প্রাকৃতভাষার শেষস্তর হচ্ছে অপভ্রংশ। এরকম একটি অপভ্রংশ হচ্ছে শৌরসেনী অপভ্রংশ। মুসলিমরা ভারতে আসার সময় দিল্লি ও তার আশেপাশে যে ভাষা প্রচলিত ছিল তার নাম খাড়িবুলি, যেটি ছিল শৌরসেনী অপভ্রংশের স্থানীয় রূপ। ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দিল্লি হয় তার রাজধানী। প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলিম শাসকদের ভাষা ছিল তুর্কি। পরবর্তী শাসকরা ছিলেন ফারসিভাষী। এছাড়া ধর্মীয় কারণে আরবির একটা ব্যাপক প্রভাবতো ছিলই। এভাবে দিল্লি ও আশেপাশে স্থানীয় খাড়িবুলির সঙ্গে আরবি, ফারসি, তুর্কি শব্দের ব্যাপক সংমিশ্রণ ঘটে। ভারতের আরেক নাম হিন্দুস্তান। তাই এভাবে যে নতুন ভাষার জন্ম হয় তার নাম হয় হিন্দুস্তানি। মুসলিম প্রশাসক, সৈন্যদল, ব্যবসায়ী, কারিগর ভারতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হিন্দুস্তানি ভাষারও বিস্তার ঘটে।

মুসলিম আমলে ফারসি দাপ্তরিক বা আদালতের ভাষা হলেও সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ছিল হিন্দুস্তানি (ব্রিটানিকা)। আমির খসরু, কবির, দাদু, রহিম কাব্যচর্চা করতেন হিন্দুস্তানি ভাষায়। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সেনানিবাসের নাম ছিল উর্দু-এ-মুআল্লা। এখানে ভারতের বিভিন্ন এলাকার সৈন্যরা খাড়িবুলি বা হিন্দুস্তানিতে কথা বলতো। শাহজাহান তার সেনানিবাসের নামে এ ভাষার নামকরণ করেন উর্দু (বাংলাপিডিয়া)। অর্থাৎ শাসক শ্রেণির হাতে বিভিন্ন ভাষার রূপান্তরের সঙ্গে তা মেহনতি মানুষের ভাষায় রূপ নিয়েছে। আর যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তার ব্যাপ্তি ছড়িয়েছে এবং তা পত্র-পল্লবে বিকশিত হয়েছে। বিশেষত মেহনতি মানুষের ভাষা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যখন শিল্প-সাহিত্যেও ভাষার রূপ নিয়েছে তখন এ ভাষা ক্রমশ বিকশিত হয়েছে। সেদিক থেকে ছহুম শ্রমজীবী মানুষের ভাষা হলে ওই ভাষা শ্রমজীবীর স্তর পার হতে না পারায় এবং তা শিল্প সাহিত্যের ভাষায় রূপ না নিতে পারায় সে ভাষার বিকাশ ঘটেনি। এবং তা কায়ক্লেশে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেই রয়ে গেছে। অন্যদিকে শ্রমের কার্যক্ষেত্র এবং শ্রমের রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে ভাষারও রূপ বদল হয়েছে। ফলে ছহুম ভাষা রূপান্তরিত হতে হতে বিলীয়মান হয়েছে।

এখন শ্রমজীবীদের কল্যাণে যতটুকু রূপান্তরিত হয়েছে তা মূল ভাষায় স্থান করে নিতে পারেনি। ফলে ছহুম যেমন পুস্তকের ভাষা পায়নি, আবার রাজন্যবর্গের ব্যবহৃত ভাষায়ও জায়গা করতে পারেনি। ফলে এর বিকাশতো ঘটেইনি বরং পুঁজিবাদী সমাজে তথাকথিত ভদ্র লোকের ভাষায় রূপ নিতে না পারায় মান ভাষার কাছে টিকতে পারেনি। তাই এখনও যতটুকু টিকে আছে, তা শ্রমজীবীদের মুখে মুখে। ফলে ভাষার মানুষের একই পেশায় না থাকার কারণে ছহুমের নামও এলাকার মধ্যে সীমিত রয়ে গেছে। নগরায়নের আঁচ যত বাড়বে, এ ভাষা ততই বিলুপ্তির কাছে চলে যাবে।

ছহুমের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, এর অবস্থান কোনো মতেই ফেলনা নয়। এ ভাষার বিস্তৃতির কোনো উদ্যোগও নেই। একটা ভাষার এসব উপভাষা থাকলে ভাষার শক্তি বাড়ে, সমৃদ্ধি ভাষাকে বিন্যস্ত ও ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে। একথা কারো মাথায় আছে বলে মনে হয় না।

বর্তমান কিশোরগঞ্জ অঞ্চল সুদূর অতীতে হাজরাদি পরগণাধীন আসাম-কামরূপ রাজ্যভুক্ত ছিল। আসাম-কামরূপের শাসনাধীন এই এলাকা স্থানীয় কোচ-হাজং সামন্ত শাসক কর্তৃক শাসিত হত। তাদের শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনে এবং নৃ-গোষ্ঠীর বসত, চলাচল ইত্যাদি নানাবিধ কারণে এই এলাকায় আদিবাসী কোচ, হাজং জনগোষ্ঠীর সাথে পার্শ্ববর্তী ভাওয়াল গড়াঞ্চলের মান্দি, হদি, রাজবংশী প্রভৃতি আদি জনগোষ্ঠীর ভাষার নিবিড় মিশ্রণ ঘটে। এর সাথে সংযোজন ঘটে এই এলাকায় বিভিন্ন সময় আগত মুসলিম ধর্মপ্রচারক, ব্যবসায়ীদের ভাষা। পরবর্তীকালে মুসলিম সুলতানি শাসনের প্রয়োজনে আরবি, মুঘল শাসনে রাজভাষার ভাষার ফারসি এবং সব শেষে ঔপনিবেশিক ইংরেজ শাসনের প্রভাবে ইংরেজির ব্যবহারে এই এলাকার ভাষাকে নানা মাত্রা দেয়। যে কারণে এইসব ভাষারূপের সাথে স্থানীয় লোকজ ভাষার মিথস্ক্রিয়ায় কিশোরগঞ্জের একটি নিজস্ব আদল নির্মিত হয়েছে, যেটা আঞ্চলিক রীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ছহুম ভাষায় পূর্ববর্তী রূপ সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী-গাজীপুরের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক শব্দ ও আংশিক বিবর্তিত রূপের সাক্ষাৎ মেলে।

ছহুম ভাষার আঙ্গিকটা এখনও লক্ষ্য করা যায়। যেমন- টাইঙ্গা-সিগারেট বা বিড়ি। ‘সাইরযারে টাইঙ্গা বেড়অ’ অর্থাৎ আমাকে একটা সিগারেট বা বিড়ি দাও। এছাড়াও জেলার অনেক কাপড়ের দোকান ও জুতার দোকানগুলোতে মালিক-কর্মচারীরা তথাকথিত ভদ্রলোকদের এড়াতে বা তাদের সামনে পেশার ভাষার গোপনীয় আদান-প্রদানে স্বাচ্ছন্দ্যে এ ভাষাটি ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ ভাষারূপ প্রচলিত না হওয়ায় ছহুম এখন পেশার ভাষা বা ঠারের মধ্যে কোনোমতে টিকে রয়েছে। যেহেতু ভাষাটি মান ভাষা ব্যবহারকারীদের কাছে দুর্বোধ্য, সেহেতু পেশাজীবী বা শ্রমজীবীরা দুর্বোধ্যতার মোড়কে থাকা ছহুম ভাষাটিকে সাংকেতিক ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। মূলত ব্যবসায়িক গোপনীয়তা রক্ষার তাগিদ থেকেই এ ভাষার উদ্ভব।

কৃষক আন্দোলন হিসেবে তেভাগা আন্দোলন একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে। ভারতবর্ষেও কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে তেভাগা আন্দোলন মাইলফলক একটি অবস্থান তৈরি করেছিলো। তেভাগা আন্দোলন কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক রূপ নিয়েছিলো। এই কৃষক আন্দোলন ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়েছিলো এবং দেশভাগের অভিঘাতে তার ইতি ঘটে ১৯৪৮ সালে। বর্গা বা ভাগ-চাষিরা এতে অংশ নিয়েছিলো। আগে বর্গাপ্রথায় জমির সমস্ত ফসল মালিকের গোলায় উঠত এবং ভূমিহীন কৃষক বা ভাগ-চাষির জন্য উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক বা আরও কম বরাদ্দ থাকত। যদিও ফসল ফলানোর জন্য বীজ ও শ্রম দুটোই কৃষক দিত। তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিমবঙ্গে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিলো। ফসল উৎপাদনের সম্পূর্ণ খরচ কৃষকেরা বহন করলেও যেহেতু তারা জমির মালিক নন, সে অপরাধে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তুলে দিতে হতো জোতদারদের হাতে। এ ব্যবস্থাকে বলা হতো ‘আধিয়ারী’। জোতদারি ও জমিদারি প্রথা ক্ষুদ্র কৃষকদের শোষণের সুযোগ করে দেয়। খাজনা আদায়ের জন্য জোতদাররা এদের দাসের মতো ব্যবহার করে। উৎপন্ন ফসলের পরিবর্তে একসময় কৃষককে বাধ্য করা হয় অর্থ দিয়ে খাজনা পরিশোধ করতে। ফলে কৃষকেরা গ্রামীণ মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। সর্বস্বান্ত হয়ে এক সময়ের সমৃদ্ধ বাংলার কৃষক পরিণত হন আধিয়ার আর ক্ষেত মজুরে। জমিদার-জোতদারদের এই শোষণ কৃষকের মনে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। এই আন্দোলনের জন্য কৃষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো থাকে। এই আন্দোলন জোরদার হলে কৃষকদের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ভয়াবহ আকার নেয়। জানা যায়, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে পর্যুদস্ত করতে ছহুম ভাষায় কথা বলে তাদের কর্মসূচি ঠিক করে নিতো। ফলে ছহুম তখন কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। সুতরাং ছহুম কৃষক আন্দোলনের ভাষায়ও রূপ নিয়েছিলো। সুতরাং তেভাগার ভাষা হিসাবে এর গুরুত্ব অসীম। কিন্তু সে মর্যাদা ভাষাটি পায়নি।

কবে এবং কিভাবে এ সাংকেতিক ভাষার সৃষ্টি, তার কোন সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও সুদীর্ঘকাল ধরে পুরুষানুক্রমিকভাবে দোকানগুলোতে এ ভাষার প্রচলন বলে জানা যায়। ছহুম ভাষাকে স্থানীয়ভাবে সুকুন বা সুহ্ম ভাষাও বলা হয়। জানা যায় দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দীকালে (সম্ভবত বিশ শতকের ইংরেজ শাসনামলেও খানিকটা সম্প্রসারিত) সংস্কৃত, আরবি, ফারসি এমনকি ইংরেজির সংমিশ্রণে এই সঙ্কর ভাষা গড়ে ওঠে। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে অষ্টগ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাসহ গোটা কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যত্র এ ভাষার প্রচলন নেই।

ছহুমের বিন্যাসটা লক্ষ্য করা যেতে পারে— ‘দুইন্যাডার মাইজে দিত অইবার সংগেই সাইরার ফিদর নেছ অইয়া গেল। দুসরার খানি এস্তাইয়া জিন্দেগী করলাম’। এর প্রমিত বাংলা রূপ— জন্ম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবা মারা গেলেন। অন্যের জমিতে কাজ করে জীবন কাটাই। ছুহুম ভাষার কতিপয় শব্দ বিশ্লেষণ: দস্তানী’ (পিটুনী) ফারসি ‘দস্ত’ বা হাতের ব্যবহারকে নির্দেশ করে। ‘নেশ’ জবাই বা প্রস্থান সম্ভবত নাশ বা শেষ অথবা সমাপ্তি-এর ভাবগত অর্থে প্রযুক্ত। উঠান থেকে টুহিয়ে (কুড়িয়ে) কুড়ানোর কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক শব্দ টুহানি। বলা (পুলিশ) বল প্রয়োগকারী বা আইনের শক্তি প্রয়োগকারী হিসেবে ভাবগত অর্থের প্রয়োগ হয়ে থাকে। ‘রোস্নাই’ সূর্য বা আলো বা দিন অর্থে ব্যবহার করা হয়। মাদাইন্যা- মধ্যাহ্ন এই সংস্কৃত শব্দের স্থানীয় রূপ ব্যবহার করা হয়। ‘খাহি দস্তায়ে’ মানে ‘হাত চালিয়ে’ ব্যবহারিক অর্থে ‘কাজ সেরে’ অর্থ বুঝায়। ‘বদনে আবি’ মানে ‘গোসল সারা’। এখানে ‘বদন’ আরবি শব্দ, যার অর্থ শরীর আর ‘আবি’ ফারসি আব (যার অর্থ পানি) শব্দে ই প্রত্যয় যুক্ত করে উচ্চারণ করা হয়। ‘ফিদর’ মানে পিতা যা ইংরেজি ফাদারের আংশিক বিকৃত রূপ। আবার গজাগিরি ধোঁকাবাজি বা প্রতারণা। তরিক কইর‌্যা মানে কৌশল করে বা চালাকির পথ অবলম্বন করে ব্যবহার হয়ে থাকে।

এ ভাষাটির প্রতি যত্নবান না হলে এক সময় এটি বিলীন হয়ে যাবে। এই ভাষাটিকে সংরক্ষণের জন্য ভাষার মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। একইসঙ্গে এই ভাষা শিল্প-সাহিত্য রচনা হলে ভাষাটি গতিশীল হবে। তাতে মূল ভাষা উপকৃত হবে বলে মনে করি।

সূত্র: কিশোরগঞ্জের লোকজ প্রথা ও লোকভাষা (মো. রফিকুল আখন্দ)

Link copied!