হত্যা মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পূর্ণ: আদালত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
হত্যা মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পূর্ণ: আদালত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলার রায়ে আদালত মন্তব্য করেছেন, মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। আদালতের মতে, এটি শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়; বরং সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা।

রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো শিশু যখন যৌন নির্যাতন, সহিংসতা বা হত্যার মতো অপরাধের শিকার হয়, তখন তার প্রভাব শুধু একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো সমাজকে নাড়া দেয় এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার প্রতিটির পেছনেই রয়েছে শিশুদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও নির্যাতনের বেদনাদায়ক ঘটনা, ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। সেই বিবেচনায় আলোচিত শিশুহত্যার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে আদালত তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকাকে প্রশংসা করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। একইভাবে প্রসিকিউশন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের দ্রুত আদালতে হাজির করে বিচারকার্য এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেন বিচারক।

আদালতের মতে, এ মামলায় পরিচালিত দ্রুত, দক্ষ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা-সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং ভুক্তভোগী পরিবার যেন দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার শিকার না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একই ধরনের দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শুধু আদালতের একার দায়িত্ব নয়। তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স আইনজীবী, সাক্ষী এবং বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আদালত আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালার আলোকে সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করে। সেই বিবেচনায় সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ রায় প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

Link copied!