নরসিংদীতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে দালালের প্ররোচনায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সময় নষ্ট হওয়ায় কবির হোসেন (৪৮) নামে এক রংমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৩১ মে) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত কবির হোসেন নরসিংদী পৌরসভার শালিধা এলাকার গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে কবির হোসেন হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সদর হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর আদর্শ জেনারেল হাসপাতালের এক দালাল বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে কবির হোসেনকে আদর্শ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ৭০০ টাকা ভিজিট নেওয়ার পর প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করানো হয়। পরে চিকিৎসক এসে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে ঢাকা নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে শাহিন বলেন, এই দালাল আমাদের বাবাকে শেষ করে ফেলছে। আমরা ছোট, আমরা ২ ভাই ১ বোন। এখন আমাদের কী হবে। এখন আমরা এটার বিচার চাই। দালাল আমাদের নানা বাহানায় টাকা কম লাগবে, তোমার বাবা সুস্থ হয়ে যাবে এখানে এগুলো বুঝিয়ে আমাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমাদের রেফার করছে ঢাকা যামু, কিন্তু দালাল এই হাসপাতালে নিয়ে আসে। সময় নষ্ট করতে করতে আমার বাবারে চিরতরে শেষ করে দিছে। আমার বাবার মৃত্যুর জন্য এই হাসপাতাল দায়ী।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলা করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৭০০ টাকা ভিজিট নেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে বলে দাবি করেন তারা।
নিহতের স্বজন স্বজল মিয়া বলেন, এই দালাল আদর্শ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। অবহেলা করে সময় নষ্ট করে কবির মারা যায়। আমরা হাসপাতালে রিসিপশনে জিজ্ঞেস করলে তারা অস্বীকার করে মিথ্যা বলে যে তাদের হাসপাতালে ২ মিনিটের বেশি রাখা হয়নি, এমনকি ৭০০ টাকা ভিজিটও নেওয়া হয়নি। আমরা এখন এই হাসপাতালের বিচার চাই, দালালের বিচার চাই।
এ বিষয়ে আদর্শ জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত নরসিংদী সদর হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহেদী হাসান বলেন, রোগীর হাতে সদর হাসপাতালের টিকিট ও রেফার স্লিপ দেখে বুঝতে পারি তাকে আগে থেকেই ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল। আমি রোগীকে দেখি বিকেল পৌনে ৪টার দিকে। তখন তার অবস্থা ভালো ছিল না। তাই দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি। রোগী কীভাবে বা কার মাধ্যমে আমাদের হাসপাতালে এসেছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে দালাল মেহেদী হাসান বলেন, অনেক দিন যাবত স্বাস্থ্য জগতে আছি। ঢাকা যেতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু এখানে মেহেদী স্যার সদর হাসপাতালে সবচেয়ে বড় ডাক্তার। এখানে সুস্থ হতে ৩/৪ মিনিট সময় লাগত। আমি রোগীকে সুস্থ অবস্থায় এখানে আনছি।
ঘটনার পর স্বজনরা দালাল চক্র ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ আর এম আল মামুন বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো তথ্য পাইনি। অভিযোগ আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















