পরীর ভিডিও ফাঁস

মানহানিকর প্রতিবেদন সরাতে বিটিআরসিকে চিঠি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২১, ০৭:০৬ পিএম
মানহানিকর প্রতিবেদন সরাতে বিটিআরসিকে চিঠি

ডিজিটাল মিডিয়ায় পরীমনির ব্যক্তিগত ও অপ্রাসঙ্গিক ছবি, ভিডিও ও তথ্য নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট তাসমিয়া নুহিয়া আহমেদ। সব প্ল্যাটফর্ম থেকে পরীমনির মানহানিকর ছবি-ভিডিও ও প্রতিবেদন সরিয়ে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

আবেদনপত্রে এডভোকেট তাসমিয়া জানান, শামসুন্নাহার স্মৃতি (২৮), পেশায় একজন অভিনেতা, পরীমনি নামেই তিনি জনপ্রিয়। গত জুন মাসে ঢাকা বোট ক্লাবে নৌকা ক্লাবে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। ফেসবুক লাইভে এসে এ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করার পর থেকেই খবরের শিরোনাম হচ্ছেন পরীমনি।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৪ জুন ব্যবসায়ী ও উত্তরা ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন মামুনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন তিনি। এরপর ৪ আগস্ট র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বনানীতে ঢালিউড অভিনেতা পরীমনির বাড়িতে অভিযান চালায়। 

র্যাবের দাবি তার বাড়ি থেকে ৩০ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে র্যাব। তবে এরপর থেকেই বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তার চরিত্র হনন করা হচ্ছে। 

মাদক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও এসব প্রতিবেদনে তার চারিত্রিক দিক ছাড়াও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, পরিচিতজন ও সম্পর্ক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন নারীর চরিত্র হননের এমন চেষ্টা অপরাধের সামিল হওয়া সত্ত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আইন অবশ্যই তাঁর নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল একজন নারীকে অপমানের সুযোগ নিচ্ছে।

পরীমনি মাদক মামলায় জড়িত কি না সেই সত্য উদ্ঘাটনের চাইতে তাঁর সঙ্গে কার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, প্রেম ছিল এসব বিষয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত অবশ্যই একজন নারীর সম্মান রক্ষা করে আইন অনুযায়ী করা উচিত। অথচ এটা নতুন কিছু নয়। 

আমাদের সমাজের অন্যান্য নারীদের সঙ্গেও এমনটি হতে দেখা যায়। নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনার পরই তাকে এভাবে হেনস্থা হতে হয়। মূলধারার ও ডিজিটাল মিডিয়ায় পরীমনিকে নিয়ে যেসব অপ্রীতিকর প্রতিবেদন প্রকাশিত বা প্রচার হচ্ছে সেগুলো স্পষ্টতই একজন নারীর ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮, ৩১, ৩২, ৩৯ ও ৪৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সমস্ত মিডিয়া ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রতিবেদন ও ডিজিটাল কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে বিটিআরসিকে আহ্বান জানান এডভোকেট তাসমিয়া। পাশাপাশি সব ধরনের অপপ্রচার বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আবেদন জানান তিনি।

Link copied!