ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টি আসনে ১৪০০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়ন থাকবে বলে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন।
ঢাকায় ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১৩ টা আসনে ১৪শর মত কেন্দ্র আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়ন করা হবে। সাধারণ আসনের চেয়ে এবং আমাদের যে নিরাপত্তা বাহিনীর যে অ্যাসেসমেন্ট আছে তারা ওই কেন্দ্রগুলাকে ফোকাস করেই তাদের যে ডেপ্লেয়মেন্টটা, সেটা ওইভাবেই তারা করছে।
বুধবার দুপুরে সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কথা বলছিলেন তিনি।
শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, “ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টি আসনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে আমি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে মালামাল বিতরণের কাজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে। আজকে দিনের মধ্যে আমাদের সকল প্রিজাইডিং অফিসার তাদের কেন্দ্রের মধ্যে মালামাল নিয়ে পৌঁছতে পারবে। কেন্দ্রে যাওয়ার পরে তাদের নিজস্ব কিছু প্রস্তুতির বিষয় আছে সেটি তারা সম্পন্ন করবেন এবং আমাদের তরফ থেকে যেসব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন তা মোটামুটি সবগুলোই সম্পন্ন করতে পেরেছি।”
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করা ও বিচার ব্যবস্থার জন্য ৮০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রতি আসনে ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
“এগুলার প্রতি নজরদারি থাকবে এবং আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যারা নিয়োজিত আছেন তাদেরকেও এই তালিকাটা দেওয়া আছে এবং তাদেরকে বলা হয়েছে এগুলো যাতে বিশেষভাবে তারা নজরদারির মধ্যে রাখে।”
শরফ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের প্রত্যেকটি বাহিনী এখানে নিয়োজিত আছে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে। প্রায় ৮০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছে, তারা সার্বক্ষণিক থাকবেন দায়িত্বে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন। ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে প্রতি আসনে দুইজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছে।
“সবগুলো কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে শতভাগ আসছে। সাধারণ কেন্দ্রগুলো আমরা কাভার করার চেষ্টা করেছি। আমাদের হিসাব মত প্রায় ৯৮% এর উপরে আমাদের কেন্দ্রগুলা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আছে। আনসারের দুইজন করে সদস্যকে ট্রেনিং করানো হয়েছে, প্রত্যেকটা কেন্দ্রে তারা থাকবেন এবং প্রত্যেকটা কেন্দ্রের পরিস্থিতি তারা একদম রিয়েল টাইম ছবি নিয়ে তারা আপলোড করতে পারবেন, যেটা আমরা এখান থেকে মনিটর করতে পারব।”
বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কক্ষের মধ্যে ভোট গণনা করা হবে, সেটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। একই সাথে বিদ্যুতের কোন বিভ্রাট হলে যাতে সেকেন্ডের জন্য আমাদের রুমটা অন্ধকার না হয়। আমরা প্রত্যেকটা রুমে, যেখানে ভোট গণনা হবে সেখানে একটা এসিডিসি ভালব যাতে অবশ্যই লাগানো থাকে সেটি আমরা এনসিওর করতে বলেছি এবং সেটি হয়েছে।
“কোনো কারণে যদি বিদ্যুৎ চলে যায় এটা টেকনিক্যাল বিষয় হইতেই পারে। এক সেকেন্ডের জন্য যাতে আমার ভোট গণনার কক্ষটা অন্ধকার না হয় সেটি আমরা এনসিওর করেছি।”
নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত নিরাপত্তার কোন ঝুঁকি আছে মনে করছি না।”
ঢাকার আসনের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কোনো চাপ অনুভব করছেন কী না জানতে চাইলে শরফ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মোটেই না, প্রার্থীরা কোঅপারেট করেছে। এখন পর্যন্ত প্রার্থীদের দিক থেকে এমন কোনো চাপ অনুভব করি নাই। তারা আমাদের শতভাগ মানে সাপোর্ট করেছে।”
সহিংসতা বা ভোটের ফলাফল নিয়ে যদি কোনো সমস্যা তৈরি হয় সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানতে চাইলে শরফ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের এত ডেপ্লয়মেন্ট সেই জন্যই। যদি এরকম কিছু হয় আমরা কি করি বলে দিলে তো, যারা করতে চায় তারা আগেই জেনে গেল। যে কোন ধরনের সিচুয়েশন সামাল দেওয়া মত অবস্থা আমাদের আছে। আমাদের প্রায় ৫২টা অভিযোগ আসছিল আমরা সবগুলো এড্রেস করেছি।”
সূত্র: বিডি নিউজ
































