• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

বিয়ের বায়োডাটা যেমন হওয়া উচিত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৩, ১২:৪০ পিএম
বিয়ের বায়োডাটা যেমন হওয়া উচিত

বিয়ে মানেই দুটি মানুষের চিরকাল একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি। যত ঝড়-তুফানই আসুক না কেন হাত ছেড়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার। সেটি প্রেমের বিয়ে হোক বা না হোক। সবকিছুতে যেমন একটি শৃংখলার প্রয়োজন হয় তেমনি বিয়ে-শাদির বিষয়েও কিছু বিষয় মেনে চললে দুজনের জন্যই ভালো। বর্তমানে বিয়ের আগে বর–কনের বায়োডাটার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। 

পরস্পরকে জানা বোঝার জন্য বায়োডাটার তথ্যের সত্যতা শুধু বিয়ের জন্যই নয়, পরবর্তী সময়ে সুখী দাম্পত্যের জন্য জরুরিও বটে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিয়ের বায়োডাটা কেমন হবে—

বর বা কনের বায়োডাটা এমন হতে হবে যেখানে মানুষটির সামাজিক, আর্থিক প্রভৃতি অবস্থা সহজে বোঝা যায়। বায়োডাটা দিয়ে আঁচ করা যায় তার জীবনধারা, চিন্তা, যোগ্যতা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি। এ ছাড়া পরিবারের অন্যদের সম্বন্ধে একটা ধারণা দেওয়া থাকলে কেমন পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তায় জড়াতে যাচ্ছেন সেটাও সহজে বুঝে নেওয়া যায়।

ছবি
বিয়ের বায়োডাটার সঙ্গে যে ছবিটি দেওয়া হবে সেটি হতে হবে ফরমালি তোলা ইনফরমাল ছবি। সেলফিও নয়, আবার পাসপোর্টের মতো গুরুগম্ভীরও নয় এমন ছবি। যে ছবি অন্য পক্ষের সবাই মিলে দেখতে পারবে। মনে রাখবেন, এই ছবি কিন্তু নতুন একটি পরিবারের কাছে আপনার সম্বন্ধে প্রথম একটা মনোভাব তৈরি করবে, তাই সঠিকভাবে সেটি তুলতে হবে।

সচ্ছতা
অনেক পাত্র-পাত্রীরা নিজের স্বাভাবিক গণ্ডির বাইরে গিয়ে বিয়ের ছবিতে অতিরিক্ত সামাজিকতার বিষয় মেনে চলতে চান। যেমন আপনি যদি হাতাকাটা ব্লাউজ বা পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য হন, নিয়মিত এমন পোশাক পরে থাকেন, তাহলে আপনার বিয়ের বায়োডাটার সঙ্গে এমন ছবিই যুক্ত করা উচিত। এতে বিয়ের আগে বা পরে নতুন পরিবারের সচ্ছতা বজায় থাকবে। 

কোনো পাত্র যদি অযথা লেখেন যে তিনি ঘুরতে খুবই ভালোবাসেন, কিন্তু বিয়ের পর দুই বছরে কোথাও গেলেন না, সেটা কিন্তু প্রতারণাই করা হবে। বরং আপনার বেড়াতে ভালো না লাগলে সেটাও উল্লেখ করতে পারেন। বিয়ের আগে কিছু বিষয় গোপন রাখলে বা চেপে গেলে বিয়ের পর খুবই খারাপভাবে সেটা সামনে আসতে পারে। এ ধরনের ঘটনা নতুন জীবনের শুরুতেই সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তোলে।

ধর্মীয় বিধিবিধান
অনেক ছেলে বা মেয়ের পরিবার ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলার ব্যাপারে বেশ কঠোর। তারা কিন্তু সুন্দরভাবে বায়োডাটায় সেটি উল্লেখ করতে পারেন। ছবিতেও সেটা স্পষ্ট রাখা জরুরি। কোনো পরিবার রক্ষণশীল হলে আরেকটি পরিবার যদি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হয়, তাহলে সেই দুটি পরিবার বিয়ের মতো বন্ধনে জড়াবে কি না, সেটি বায়োডাটা দেখে যেন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বায়োডাটা বা ছবিতে নিজের সঠিক পরিচয় তুলে ধরলে দুই পক্ষের জন্যই সেটা মঙ্গলজনক হবে।

যেসব বিষয় রাখতেই হবে
বিয়ের বায়োডাটায় অবশ্যই ব্যক্তির পূর্ণ নাম, জন্ম সাল, রক্তের গ্রুপ, বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠানের নাম, পদবি ও ঠিকানা, জেলার নাম, উচ্চতা। শহরে থাকলে সেটি ভাড়া না নিজেদের বাসা এসবের সঠিক তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া ফোন নম্বর, ই–মেইল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করলে তার ঠিকানাও বায়োডাটায় দিতে পারেন। এই তথ্য সাধারণত প্রাথমিক নির্বাচনের পর বা নির্ভরযোগ্য হলে শুরুতেই বায়োডাটায় উল্লেখ করে দিতে পারেন।

পরিবারিক বৃত্তান্ত
পরিবারের বাকি সদস্য অর্থাৎ মা–বাবা এবং ভাই–বোনের নাম, পেশা অবশ্যই উল্লেখ করুন। ভাই–বোন বিবাহিত হলে তাদের সঙ্গীর তথ্যও উল্লেখ রাখুন। অনেকে দাদা-দাদি এবং নানা-নানির তথ্যও দিয়ে থাকেন। এতে পারিবারিক অবস্থা বুঝতে বা সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। তবে পরিবারের একাংশের শিক্ষা ও অর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গ অনেকে এড়িয়ে যান, বিশেষ করে তারা যদি হন কম শিক্ষিত বা কম অবস্থাপন্ন। 

প্রাথমিক কথাবার্তার পর হ্যাঁ–সূচক উত্তর এলে বায়োডাটা দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবারের এসব দিকও সততার সঙ্গে তুলে ধরা উচিত। এতে সেই পরিবার সবটা জেনেবুঝে বিয়েতে রাজি হলে বিয়ের পর তাদের আচরণেও কোনো পরিবর্তন হবে না। তাতে বর বা কনে অন্য পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন।

এসব তথ্য সঠিকভাবে না দেওয়া এবং জানাবোঝার অভাবেই সাধারণত বিয়ের পর সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়, ঘটে বিচ্ছেদ। এসব বিষয়ে মানুষ যদি ঠিকমতো মূল্যায়ন করে, তাহলে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ হবে।

সূত্র : প্রথম আলো।

Link copied!