• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

নিজেদের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাবার কারণ নাই!


রাজীব কুমার দাশ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২, ০৭:১৭ পিএম
নিজেদের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাবার কারণ নাই!

আহার, মৈথুন, মলমূত্র ত্যাগ, হিংসা, সুখের প্রচেষ্টা করা, প্রাণীর বৈশিষ্ট্য। মানুষ নামের
প্রাণীটি— নিজেদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী দাবি করার পেছনে আমার কাছে অকাট্য নিরঙ্কুশ কোনো যুক্তি মনে ধরেনি।

মানুষ নামের প্রাণীটি—যা যা আবিষ্কার যুক্তি মতপ্রকাশ করেছেন, সবকিছু নিজেরই সুরক্ষা ভোগের নিমিত্তে করেছে। প্রকৃতির কিংবা অন্য প্রাণীর সুরক্ষা বলয় নিয়ে মানুষ কখনো চিন্তা করেননি। প্রখর বুদ্ধিমত্তা শুধু মানুষের আছে, তা কিন্তু ঠিক না। অন্য প্রাণীরও আছে। বিজ্ঞানীরা সবেমাত্র—মৌমাছির সুখ-দুখের কাল চক্র বের করতে পেরেছেন। পৃথিবীতে অনাবিষ্কৃত অনাবাসী অনেক প্রাণী রয়েছে, যাদের পৃথিবী ধ্বংসের আগে পর্যন্ত কালচক্র বের করতে পারবেন না। এটা সেটার দোহাই দিয়ে মানুষ ভোগের উপাচার সাজিয়ে অন্য প্রাণীর অধিকার ন্যায়গুলো কেড়ে নেন। ভোগে সহজে না পেলে চিরতরে ধ্বংস করতেও পিছপা হন না।

মাংসাশী প্রাণী আহার, মৈথুন প্রজন্ম রক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট  হলেও মানুষ নামের প্রাণীটি তাতেও সন্তুষ্ট নহেন। সে ‘আরো আরো পেতে চাই’ অতৃপ্ত হৃদয়ে মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাঝে মাঝে স্বর্গের লোভে সে কিছুটা সময় : টেস্টোস্টেরন হরমোন লেবেল মেপে সৎ থাকার চেষ্টা করেন। বেড়ে গেলে আবারও শুয়োর, কুকুর, পাঁঠা হয়ে চরিত্র মর্যাদানাশ করে নরক ভুলে সবকিছু একাকার করে দেন। জৈবিক হরমোনের লেবেল মেপে মৈথুন সুখে শূকরি-কুকুরি কামড়াকামড়ি করে রক্তাক্ত করেন। নিজের পছন্দসই সাথী বানিয়ে নেন। মানুষ নামের মর্দা-মাদি প্রাণীটিও বেশ্যাগমণ করেন পুরুষবেশ্যা পোষেন। চুপিচুপি যে যার মতোন করে মৈথুনপরায়ণ হয়ে উঠেন। পশুমনে, বিচারক, কোর্ট, উকিল, পুলিশ, ডাক্তার, ব্যারিস্টার মানবাধিকার সংবিধান নাই— তাতে কী? নিজের স্বভাবের বিন্দুবৎ পরিবর্তন করেন না। ওদের শক্তি একমাত্র বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। খাবার, যৌনতার বিনিময়ে ঘুষ উপহার পশু সমাজে নাই। সিংহ হতে কীট পতঙ্গ নিজের কাজ নিজেরই করে নিতে হয়।  মানুষ নামের প্রাণীটির চিত্র-বিচিত্র স্বভাব মুহূর্তে ভোল পাল্টে নেয়া বহুরূপী কামান মাইন ট্যাঙ্ক টর্পেডো যুদ্ধবিমান মেশিনগান পারমাণবিক হাইড্রোজেন ফিউশন ধূর্তামি ভণ্ডামি অন্য প্রাণীরা বুঝতে পারেন না বলেই  মানুষ নিজেদের মহামানব সর্বশ্রেষ্ঠ জীব দাবি করেন এবং পৃথিবীতে সুরক্ষিত থাকছেন। উদোম যৌবন ফুরিয়ে গেলে শুকর, কুকুর, বাঘ, সিংহ সংসারের বোঝা না হয়ে অগস্ত্যযাত্রা করে নীরবে হারিয়ে যান। মানুষ নামের প্রাণীটি পরিবার সংসারের বোঝা হয়ে সঙ সেজে নানান রঙে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রচণ্ড ভীতু চাহনি নিয়ে পৃথিবীতে থেকে যেতে যান।

মৃত্যুর ধ্রুব সুন্দর হাসিমুখে আলিঙ্গন করে পশুপাখি, কীটপতঙ্গ নিজেদের  সঁপে দিতে পারলেও মানুষ নামের প্রাণীটি সারাজীবন পৃথিবীতে তার কী কী কাজ ছিল, সে কী কী করেছেন? হিসাব
মেলাতে গিয়ে থরহরি কাঁপুনিতে হাসি দূরে থাক; পায়খানা-পেশাব করে পরিবারের বারোটা বাজিয়ে দেন।

মানুষ নামের প্রাণীটি যতোক্ষণ নিজেদের শুকর, কুকুর, বাঘ, সিংহ, নেকড়ে, ধূর্ত শেয়াল সরীসৃপ থেকে নিজেদের আলাদা করতে না পারবেন; ততোক্ষণ নিজেদের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, পণ্ডিত মহাজ্ঞানী নোবেল বিজয়ী, মহামানব, সাধু-বৈরাগী-সুফি, সম্রাট, দরবেশ, মহাজন, বৈষ্ণব, বিচারক, বিশেষজ্ঞ ভাবার কোনো কারণ নাই।

কবির ভাষায় : “মানুষের চেয়ে কুৎসিত বহুরূপী মনের একটি প্রাণী ও নাই।”

Link copied!