মানুষের ত্বকের রং তৈরিতে সাহায্য করে মেলানিন নামে একটি ধরনের রঞ্জক পদার্থ। অনেক সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বা অ্যান্টিবডি ত্বকের রং তৈরি করা এই কোষগুলিকে শত্রু মনে করে ধ্বংস করতে থাকে। এবং ত্বক তার স্বাভাবিক রং হারাতে থাকে। এরই ফল শ্বেতি। শ্বেতি নিয়ে সাধারণের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা আছে, জেনে নিন সেগুলো কী কী-
- শ্বেতি ছোঁয়াচে এই ধারণা একেবারেই ভুল। কাউকে ছুঁলে কিংবা তাঁর ব্যবহৃত কোনো জিনিস ব্যবহার করলে শ্বেতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। জিনগত কারণে ও পরিবেশগত কারণে এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।
- শ্বেতির সঙ্গে পরিচ্ছন্ন থাকা বা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি ‘অটোইমিউন ডিজ়অর্ডার’। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন বলেই শ্বেতি হবে না, এমন ধারণা রাখা ভুল।
- অনেকেই মনে করেন, যাদের চামড়ার রং বেশি গাঢ়, তাদেরই শ্বেতি হয়। কিন্তু এমন ধারণা ভুল। গায়ের রং খুব ফর্সা হলেও কিন্তু শ্বেতি হতে পারে। গায়ের রঙের সঙ্গে এই রোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
- সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির ত্বকের ক্ষতি করতে পারে, তবে শ্বেতির জন্য দায়ী নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শ্বেতি হয় অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত প্রসাধনীগুলিতে ইদানীং অধিক মাত্রায় রাসায়নিকের ব্যবহার হচ্ছে। সেখান থেকেও শুরু হয় সমস্যা।
- অনেকের ধারণা, এই রোগের চিকিৎসা হয় না। তবে ওষুধ ও অস্ত্রোপচার দু’ভাবেই এ রোগের চিকিৎসা হতে পারে। ত্বকের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকেরা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ও ক্রিম দেন। কিছু ক্ষেত্রে ফোটোকেমো থেরাপিও করানো হয় বা আক্রান্ত অংশে ওষুধ লাগিয়ে রোদে দাঁড়িয়ে অতিবেগুনি রশ্মিও গায়ে লাগানোর কথা বলে থাকেন চিকিৎসকেরা।






































