বিভিন্ন কলেজে বদলি হওয়া এ শিক্ষকরা এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন। ১০ দিন আগে জলবদ্ধতার কারণে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বিপত্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তবে ওএসডি ও বদলির সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক আছে কিনা নিশ্চিত করা হয়নি
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে বিভিন্ন কলেজে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি করে একই সঙ্গে বিভিন্ন কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ওএসডি ও সংযুক্ত করার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে ৭ শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে।
এ শিক্ষকরা এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন। ১০ দিন আগে জলবদ্ধতার কারণে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বিপত্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তবে ওএসডি ও বদলির সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক আছে কিনা নিশ্চিত করা হয়নি।
গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। আজ সকালে পদায়রে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম।
সাত শিক্ষকের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
জানা যায়. উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম সরাসরি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন না। এছাড়া জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অনীহার কারণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ছিলেন।
গত ১৩ জুলাই সকালে টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আমেনা বেগম বলেন, বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো কর্মকর্তাকে যে কোনো সময় বদলি করতে পারে।
তবে তিনি এ-ও বলেন, এ ঘটনায় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।





































