ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।
তবে সেই সম্ভাবনা আশা জাগাতে পারেনি বৈশ্বিক তেলের বাজারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। দুই সপ্তাহ আগে ভেঙে পড়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৪ রাত ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
এর জবাবে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং সতর্ক করে বলেছে, ওই দেশগুলোর যেসব বেসামরিক স্থাপনা মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করছে, সেগুলোও ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইরানি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং, ক্যাম্প আরিফজান ও ক্যাম্প দোহায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলা। তারা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অব্যাহত রয়েছে অস্থিরতা। গত শুক্রবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার অতিক্রম করে, যদিও পরে কিছুটা কমে ৯৯ দশমিক ৬২ ডলারে নেমে আসে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৮২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ২৪ ডলার বেশি।
বৃহস্পতিবার হুতিদের হামলার পর এক দিনেই তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন সবচেয়ে বেশি নজর রাখছে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির পরিস্থিতির দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল এই দুটি নৌপথ দিয়ে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়।
হুতিদের হামলার পর একাধিক তেলবাহী জাহাজ পথ পরিবর্তন করে সুয়েজ খাল হয়ে আফ্রিকা ঘুরে এশিয়ায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যাত্রাপথ প্রায় এক মাস দীর্ঘ হচ্ছে এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করত, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১৫টির মতো। রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।
শুক্রবার জাপানের নিক্কেই সূচক ২ দশমিক ৮ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে। আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট ২ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। ডিজেলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ ডলার।






























